শেখ হাসিনাসহ অন্যদের শাস্তি দিতে না পারলে শহিদ ও আহতদের প্রতি অবিচার হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপনকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত এই হত্যাযজ্ঞের দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে শহিদ ও আহতদের প্রতি বড় ধরনের অবিচার হবে।

Oct 23, 2025 - 14:09
 0  2
শেখ হাসিনাসহ অন্যদের শাস্তি দিতে না পারলে শহিদ ও আহতদের প্রতি অবিচার হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপনকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত এই হত্যাযজ্ঞের দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে শহিদ ও আহতদের প্রতি বড় ধরনের অবিচার হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার যুক্তি উপস্থাপন শেষে তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত জুলাই হত্যাযজ্ঞে শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। এই আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

এরপর ট্রাইব্যুনাল আশ্বাস দিয়ে জানায়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং উভয় পক্ষই সমানভাবে বিচার পাবেন।

এদিন মামলার প্রসিকিউশনের পক্ষে সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান। যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ তারিখ ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর টানা পাঁচদিনের শুনানি শেষে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে। এরপর ২০ অক্টোবর আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমীর হোসেন শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে তাকে নির্দোষ দাবি করেন এবং খালাস চান।

প্রসিকিউশন এ মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও সাক্ষ্য দিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে মূল দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। প্রায় ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার এই মামলার অভিযোগপত্রে শহিদদের তালিকা, জব্দতালিকা, দালিলিক প্রমাণ ও তথ্যসূত্রের বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এমবি এইচআর