বিরোধী দল দমনই ছিল যার একমাত্র ‘যোগ্যতা’
বাংলাদেশ পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের পুরো কর্মজীবন জুড়ে ছিল ক্ষমতার দাপট, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ভরা।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের পুরো কর্মজীবন জুড়ে ছিল ক্ষমতার দাপট, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ভরা। শুরু থেকেই সরকারি আশীর্বাদে তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, যদিও তার বিরুদ্ধে ছিল অসংখ্য অভিযোগ ও সমালোচনা।
২০১১ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত হন হারুন। এরপর থেকেই তিনি ক্ষমতাসীন দলের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি পান। গাজীপুরে দায়িত্ব পালনকালে বিএনপির জনসভা বন্ধ করে ও নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বিরোধী দমননীতির প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি।
গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় দায়িত্বকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠে অপহরণ, গুম, চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও দুর্নীতির অভিযোগ। শিল্পপতিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, সাজানো মামলা তৈরি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বহু প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু এসবের পরও পদোন্নতির ধারা অব্যাহত থাকে।
ডিবি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার ও হেফাজত নেতাদের নিপীড়নের ঘটনায় তিনি আবারও আলোচনায় আসেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের আটক রেখে ভিডিও প্রচার করে দেশ-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়েন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
হারুনের কর্মকাণ্ডে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, সাধারণ নাগরিক ও সাংবাদিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গাজীপুরে এক প্রতিবন্ধী সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে সাজানো মামলায় জেলে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ চাকরিজীবনে নানা অপকর্ম ও অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কখনো শাস্তির মুখোমুখি হননি হারুন অর রশীদ। বরং প্রতিবারই নতুন পদোন্নতি ও প্রভাবশালী পদ পেয়েছেন, যা প্রশাসনে জবাবদিহির ঘাটতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
এমবি এইচআর

