বন্ধ হতে যাওয়া ‘এমপি প্রকল্পে’ ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন
প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় ২০২২ সালে, এক হাজার ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে। কিন্তু এখন ব্যয় বাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—অর্থাৎ বাড়ছে আরও ৪১৮ কোটি টাকা।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: দেশে এখন কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) নেই, তবুও তাদের নামে চালু থাকা ‘এমপি প্রকল্পে’ ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন–২’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের ব্যয় ৩৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় ২০২২ সালে, এক হাজার ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে। কিন্তু এখন ব্যয় বাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—অর্থাৎ বাড়ছে আরও ৪১৮ কোটি টাকা।
প্রকল্পের মেয়াদও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, যেসব কাজ শেষের পথে আছে তা দ্রুত শেষ করা এবং নতুন কোনো খাতে ব্যয় না বাড়ানো। তাই হঠাৎ ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পরিকল্পনা কমিশনে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৬৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। কিন্তু আগামী দেড় বছরে বাকি ৮০০ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নতুন সংশোধনী প্রস্তাবে দেখা যায়, চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, আর মেহেরপুরে সর্বনিম্ন ৫ কোটি টাকা। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এক পরিকল্পনা কমিশন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “প্রকল্পটি ৭০০ কোটিতেই শেষ করা যেত, এখন নতুন করে ব্যয় বাড়ানো অযৌক্তিক।”
অন্যদিকে সাবেক প্রকল্প পরিচালক নাজমুল করিম বলেন, “স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, বন্ধ হতে যাওয়া একটি প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি শুধু প্রশাসনিক বিভ্রান্তিই নয়, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপরও প্রশ্ন তোলে।
এমবি/এসআর

