বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সুযোগ বন্ধ, ফিরল ‘না ভোট’
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। ফিরছে ‘না ভোট’-এর বিধান। পাশাপাশি ইভিএম বাতিলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) ২০২৫–এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। ফিরছে ‘না ভোট’-এর বিধান। পাশাপাশি ইভিএম বাতিলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) ২০২৫–এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সংশোধিত আরপিওতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত বিধান বাতিল, ‘না ভোট’ পুনর্বহাল, মামলায় পলাতক আসামিদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখা এবং প্রার্থীদের দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা।
নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনী এলাকায় একজন প্রার্থী থাকলে ভোটাররা চাইলে তাকে ভোট না দিয়ে ‘না ভোট’ দিতে পারবেন। ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ‘না ভোট’ দিলে সেই আসনে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইভিএম বাতিলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অধীনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রার্থীদের এখন থেকে তাদের দেশি ও বিদেশি সব আয়, সম্পত্তি ও দায়দেনার বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে, যা প্রকাশ করা হবে কমিশনের ওয়েবসাইটে।
এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলেও প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।
নতুন বিধানে প্রবাসী ভোটার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ভোট গণনার সময় মিডিয়ার উপস্থিতিও অনুমোদন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলকে ৫০ হাজার টাকার বেশি চাঁদা বা অনুদান ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নিতে হবে এবং দাতাকে অবশ্যই ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে।
আগে ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ঘটলে নির্বাচন কমিশন শুধু সেই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করতে পারত, কিন্তু এখন প্রয়োজনে পুরো নির্বাচনী এলাকার ভোট বাতিলের ক্ষমতাও পাবে কমিশন।
সব মিলিয়ে এই সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এমবি এইচআর

