দ্বিগুণ মূল্যে কমলাপুর মেট্রোরেলের কাজ পেল ভারতীয় কোম্পানি

কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রাথমিক বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে কাজ পাচ্ছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লারসন অ্যান্ড টুব্রো।

Oct 26, 2025 - 15:39
Oct 26, 2025 - 16:12
 0  3
দ্বিগুণ মূল্যে কমলাপুর মেট্রোরেলের কাজ পেল ভারতীয় কোম্পানি

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: ঢাকা শহরে মেট্রোরেল নির্মাণ খরচ ভারতের অন্যান্য শহর এবং মধ্যপ্রাচ্যের শহরের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি। বিশেষ করে কমলাপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ভারতের লারসন অ্যান্ড টুব্রু কোম্পানি পেয়েছে, যেখানে খরচ প্রাথমিক বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রাথমিক বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে কাজ পাচ্ছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লারসন অ্যান্ড টুব্রো

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর–কমলাপুর) ও লাইন-৫ (উত্তর রুট: গাবতলী–দাশেরকান্দি) প্রকল্পের কয়েকটি টেন্ডারে দরদাতারা প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় অনেক বেশি দর দিয়েছে। ফলে কিছু প্যাকেজের টেন্ডার পুনরায় দিতে হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে প্রকল্পগুলো উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার অধীনে হলেও বাস্তবে জাপানি কোম্পানিগুলোই বেশিরভাগ কাজ পাচ্ছে। এতে প্রকল্পের খরচ বাড়ছে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি। ভূগর্ভস্থ অংশের নির্মাণ ও ভায়াডাক্টের কারণে খরচ অনেক বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, লাইন-৫ দক্ষিণ রুটে ১৩.১ কিলোমিটার টানেল এবং ৪.১ কিলোমিটার এলিভেটেড রেলপথ রয়েছে।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-র কাছে ডিএমটিসিএল প্রকল্পের ব্যয় পুনর্মূল্যায়নের জন্য অনুরোধ করেছে। আগস্ট ২০২৫-এ জাপান সফরে গিয়ে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে জাইকাকে ব্যয় কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের প্রস্তাব দেন।

ডিএমটিসিএল ভবিষ্যতের জন্য প্রতি কিলোমিটারের খরচমান নির্ধারণ করতে সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয় পুনর্বিবেচনা করছে। প্রধান কৌশল হিসেবে তারা দুইটি পদ্ধতি গ্রহণ করছে—
১. অর্থায়ন কাঠামো পুনর্বিন্যাস।
২. নকশা ও নির্মাণে অপ্টিমাইজেশন। উদাহরণস্বরূপ, ছয়টি ডিপোর পরিবর্তে চারটি রাখলে কয়েকশ’ কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব। কম খরচের টানেল কাঠামো ও সমন্বিত ভায়াডাক্ট ডিজাইনও যাচাই করা হচ্ছে।

বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ হয়েছে ২১,৯৮৫ কোটি টাকা। মাত্র ১.১৬ কিলোমিটার মতিঝিল–কমলাপুর অংশের খরচ ধরা হয়েছে ১১,৪৮৭ কোটি টাকা। নতুন স্টেশন চালু হলে বছরে অন্তত ১২৬ কোটি টাকা রাজস্ব বাড়ার আশা করা হচ্ছে।

ডিএমটিসিএল জানায়, সব মেট্রোরেল প্রকল্প ঋণনির্ভর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঋণ পরিশোধের চাপ কমাতে তারা বিদেশি ইক্যুইটি বিনিয়োগ ও বেসরকারি অংশগ্রহণ আকর্ষণের পরিকল্পনা করছে।

ফারুক আহমেদ বলেন, প্রাথমিক দরপত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা দাবি করেছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর চূড়ান্তভাবে ৪৬৫ কোটি টাকায় কাজ সম্পন্ন হচ্ছে, যা প্রাথমিক বরাদ্দের তুলনায় ৩০–৪০ শতাংশ কম।

এমবি/এসআর