বারিতে পরীক্ষা ছাড়াই ৪২ জন সরকারি চাকরি পেয়েছেন

কোনো ধরনের পরীক্ষা বা আবেদন ছাড়াই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বৈজ্ঞানিক সহকারী পদে ৪২ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

Oct 27, 2025 - 21:00
 0  3
বারিতে পরীক্ষা ছাড়াই ৪২ জন সরকারি চাকরি পেয়েছেন
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

কোনো ধরনের পরীক্ষা বা আবেদন ছাড়াই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বৈজ্ঞানিক সহকারী পদে ৪২ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় বারির সাবেক মহাপরিচালক ও উপপরিচালকসহ মোট ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকেই মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বৈজ্ঞানিক সহকারী পদে ২০টি শূন্য পদের বিপরীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ১৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ, সাক্ষাৎকারে অকৃতকার্য এবং এমনকি আবেদন না করা ৪২ জনকেও বেআইনিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তদন্তে উঠে আসে, ২৫ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি, ১৪ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সাক্ষাৎকারে অকৃতকার্য হন এবং তিনজন চাকরির জন্য আবেদনই করেননি।

দুদক বলছে, তৎকালীন মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মণ্ডল ও উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি বিধি ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তন, অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রার্থী তালিকা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে।

দুদক কর্তৃক অনুমোদিত এ মামলায় আসামি করা হয়েছে বারির সাবেক মহাপরিচালক, সাবেক উপপরিচালকসহ নিয়োগপ্রাপ্ত ৪২ জন বৈজ্ঞানিক সহকারীকে।

অভিযুক্তরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন—যার মধ্যে রয়েছে সরেজমিন গবেষণা কেন্দ্র, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, মসলা গবেষণা কেন্দ্র, কৃষি গবেষণা উপকেন্দ্র, বীজ প্রযুক্তি বিভাগ, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, “এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপব্যবহার, যোগসাজশ ও প্রতারণার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।”

এমবি এইচআর