সিইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত, নির্বাচনী দায়িত্বে ইসলামী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৈঠকে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার বিএনপির সাম্প্রতিক দাবির প্রেক্ষিতেই এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর বিএনপির প্রতিনিধি দল ইসির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগে ‘বিতর্কিত ও দলীয় পরিচয়ের’ ব্যক্তিদের দায়িত্ব না দেওয়ার অনুরোধ জানায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সেদিন বলেন, “যেকোনোভাবে যেন বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভোটের দায়িত্ব না দেওয়া হয়।”
বিএনপি ইসিকে জানায়, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনে সিনার মতো প্রতিষ্ঠান থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংক সারাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল করেছে এবং দ্রুত নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, “সেবামূলক ও অরাজনৈতিক এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে দেশের মানুষের সেবা করে আসছে। তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাই তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে ইসিকে জানানো হয়, এ ধরনের ভিত্তিহীন দাবি মেনে নিলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। সঠিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে কমিশনের উচিত সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
এমবি এইচআর

