জুলাই সনদ নিয়ে ঐকমত্য না হলে বৃহস্পতিবার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিবে অন্তর্বর্তী সরকার

Nov 11, 2025 - 15:47
 0  2
জুলাই সনদ নিয়ে ঐকমত্য না হলে বৃহস্পতিবার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিবে অন্তর্বর্তী সরকার

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও ঐকমত্য না হওয়ায় সরকার বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নিজ উদ্যোগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হলেও কোনো দলই অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। না পেলে ১৩ নভেম্বর সরকার নিজ সিদ্ধান্ত নেবে।”

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, “দলগুলোকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারই তাদের এখতিয়ারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকার দরজা খোলা রেখেছে, তবে নতুন কোনো আলোচনার আমন্ত্রণ এখনও আসেনি।”

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বৈঠকে বসে বৃহস্পতিবারের বৈঠকের আলোচ্য নির্ধারণ করবেন। এর আগে ৩ নভেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে একক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলগুলোর এ অচলাবস্থা দেশের গভীর কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, “দলগুলো জুলাই সনদকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। এখন বল সরকারের কোর্টে। কোনো অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “সরকারের এখন সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা উচিত। সব দলের স্বার্থ মিলবে না, সেটি মেনে নিতে হবে।”

তবে রাজনৈতিক দলগুলো এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, “নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
জামায়াতে ইসলামী’র হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “দলগুলো নয় মাস ধরে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে কাজ করেছে, কিন্তু বিলম্বিত পদক্ষেপে জটিলতা তৈরি হয়েছে।”

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত নিজেদের স্বার্থে অবস্থান বদলাচ্ছে। জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বৃহস্পতিবার সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও আসন্ন নির্বাচনকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।

এমবি/এসআর