৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি, আলোচনায় ড. ইউনূসের গোপন বৈঠক

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার একটি গোপন প্রক্রিয়া চলছে—এমন অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গন।

Dec 10, 2025 - 13:41
 0  2
৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি, আলোচনায় ড. ইউনূসের গোপন বৈঠক
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার একটি গোপন প্রক্রিয়া চলছে—এমন অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের দুই কন্যা লেয়লা আলিয়েভা ও আরজু আলিয়েভার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ঘটনায় এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বাংলাদেশে আজারবাইজানের কোনো দূতাবাস কিংবা উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই। ফলে ৭ ডিসেম্বর তাদের হঠাৎ ঢাকায় আগমন এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠককে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখছে না কেউ। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টির নেপথ্যে রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের বিপুল সম্পদ অফশোর একাউন্টে পাচারের প্রস্তুতি।

আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী রিপোর্ট পানামা পেপার্সে আলিয়েভ পরিবারের নাম দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অফশোর কোম্পানি এবং অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আজারবাইজানের টেলিকম অপারেটর আজারসেলের লভ্যাংশ বিদেশে পাচারের যে কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, একই পদ্ধতি অনুসরণ করেই এবার বাংলাদেশের গ্রামীণ টেলিকমের সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

গ্রামীণ টেলিকম কোনো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়; এটি গড়ে উঠেছিল গ্রামীীন ব্যাংকের ঋণের টাকায়, অর্থাৎ দেশের দরিদ্র মানুষের আমানত থেকে। বর্তমানে গ্রামীণফোনে গ্রামীণ টেলিকমের ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে যার বাজারমূল্য প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। লভ্যাংশ, শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হয়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সম্পদের মালিকানা হস্তান্তর, লভ্যাংশ তরলীকরণ বা অফশোর একাউন্টে সরিয়ে নেওয়ার ছক তৈরি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত আলিয়েভ পরিবারের সংশ্লিষ্টতা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এরই মধ্যে গ্রামীণ টেলিকমে শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশ আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে সম্পদ সরিয়ে নিতে তড়িঘড়ি এ ধরনের বৈঠক আয়োজন করা হয়ে থাকতে পারে।

অভিযোগ উঠেছে, দেশের সবচেয়ে লাভজনক টেলিকম খাতের এই বিশাল সম্পদ যদি আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সহায়তায় পাচার হয়ে যায়, তবে বাংলাদেশ হারাবে তার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক ভিত্তি। তবুও সরকার বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো—বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসি—এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি, যা জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

গরিব মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে গড়া গ্রামীণ টেলিকমের সম্পদ কি এভাবেই বিদেশে পাচার হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা থেকে এখনই স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

এমবি এইচআর