নিরাপত্তা ঝুঁকিতে প্রার্থীরা, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যানের ব্যবস্থা

সম্প্রতি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদউল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় অধিকাংশ প্রার্থীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Dec 18, 2025 - 11:07
 0  2
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে প্রার্থীরা, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যানের ব্যবস্থা
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

সম্প্রতি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদউল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় অধিকাংশ প্রার্থীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। ফলে নির্বাচনী মাঠে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে প্রার্থীদের নিরাপত্তা।

প্রার্থীদের নিরাপত্তা শঙ্কা কাটাতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে যেসব প্রার্থী নিরাপত্তাজনিত কারণে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নিতে চান, তাদের জন্য দ্রুত লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নীতিমালা জারির পর গতকাল পর্যন্ত প্রায় ২০ জন প্রার্থী আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভা-সমাবেশ বা গণসংযোগে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগেভাগে জানাতে প্রার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীতে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, নির্বাচনে প্রার্থীদের সবাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, নির্বাচন বানচালের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত—দুই ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি মনে করেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তায় সরকার চাইলে প্রতিটি প্রার্থীর জন্য একাধিক গানম্যানের ব্যবস্থা করতে পারে।

ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নিরাপত্তার শঙ্কা থাকলেও কাজ চালিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। সভা-সমাবেশের ক্ষেত্রে আগাম জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, নির্বাচনী বিধিমালা মেনে গণসংযোগ চালানো হচ্ছে। তবে দুষ্কৃতকারীরা সুযোগ নিতে পারে—এমন উদ্বেগ রয়েছে। প্রশাসন নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার পর প্রার্থী, রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একইভাবে গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদউল্লাহর গণসংযোগকালে গুলির ঘটনায় তিনজন আহত হন। এসব ঘটনায় সারাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেসব প্রার্থীর ঝুঁকি বেশি, তাদের সার্বক্ষণিক গানম্যান দেওয়া হবে। জুলাই যোদ্ধা ও অতিঝুঁকিতে থাকা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনে সশস্ত্র দেহরক্ষী ব্যবস্থার পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও দেহরক্ষী দেওয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, প্রার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—অতিঝুঁকি, মাঝারি ঝুঁকি ও কম ঝুঁকি। প্রত্যেক প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনা করে, যেভাবে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

এমবি এইচআর