পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন: ৭ই মার্চের ভাষণ বাদ দিয়ে যুক্ত হলো জুলাই আন্দোলন

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রণীত কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকে সংশোধন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধিত সংস্করণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিবর্তে জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত নতুন পাঠ যুক্ত করা হয়েছে।

Jan 3, 2026 - 19:28
 0  2
পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন: ৭ই মার্চের ভাষণ বাদ দিয়ে যুক্ত হলো জুলাই আন্দোলন

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রণীত কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকে সংশোধন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধিত সংস্করণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিবর্তে জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত নতুন পাঠ যুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করে। এরপর থেকেই পাঠ্যবইয়ের এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এনসিটিবির প্রকাশিত বইগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের একাধিক সংস্করণে ‘বঙ্গবন্ধু’ বিশেষণটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু জায়গায় এখনও ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি রয়ে গেছে।

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ইংরেজি পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণভিত্তিক পাঠটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে জুলাই আন্দোলন সম্পর্কিত একটি নতুন লেসন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একই ধরনের পরিবর্তন ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বিভিন্ন পাঠ্যবইয়েও লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামে গদ্যাংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রকাশিত নতুন সংস্করণে ওই গদ্যাংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে বইটিতে এবার ১২টি গদ্যের পরিবর্তে ১১টি গদ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের পাঠ্যবই সংস্কারে অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, গণঅভ্যুত্থানের পর পাঠ্যবইয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের অংশ হিসেবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কিত অতিরঞ্জিত তথ্য বাদ দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার আলোকে এনসিটিবি পাঠ্যবই সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এমবি এইচআর