বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে পিএসসি সংশোধনের উদ্যোগ

বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর আগ্রহ না পাওয়ায় উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি)–২০২৫ পুনরায় সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

Jan 5, 2026 - 20:20
 0  4
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে পিএসসি সংশোধনের উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর আগ্রহ না পাওয়ায় উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি)–২০২৫ পুনরায় সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে ডাকা আন্তর্জাতিক দরপত্রে কোনো সাড়া না পাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ উদ্যোগ নিল।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পেট্রোবাংলাকে কমিটিকে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পিএসসি সংশোধন করা হবে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর চেষ্টা হলেও বারবার তা ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন তিনটি সরকারের আমলেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর দাবি ছিল, বাংলাদেশের পিএসসি কাঠামো তাদের জন্য পর্যাপ্তভাবে আকর্ষণীয় নয়।

এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান পিএসসি পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। এর পর গত ১৭ ডিসেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ (ইএমআরডি) বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসীনকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিকে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত বছরের ১১ মার্চ সমুদ্রের ২৪টি ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো কোম্পানি অংশ নেয়নি। পরে আগ্রহ না দেখানোর কারণ জানতে কোম্পানিগুলোর মতামত নেয় পেট্রোবাংলা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জিকে পিএসসি–২০২৫ পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, অফশোর মডেল পিএসসি–২০২৫–এর খসড়া ও নতুন বিধানসমূহ বিশদভাবে পর্যালোচনার পাশাপাশি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, পাইপলাইন ব্যয় পুনরুদ্ধার এবং কাজের বাধ্যবাধকতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে। নতুন কাঠামোয় গ্যাসের মূল্য ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ছিল। পেমেন্ট পদ্ধতিতে লাইবরের পরিবর্তে সোফার ব্যবহার, ডাটা মূল্য, ওয়ার্কার্স প্রফিট বোনাস এবং কস্ট রিকভারিতেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধানে এক্সনমবিল, শেভরন, পেট্রোনাস, ইনপেক্স, সিনুক, ক্রিস এনার্জি ও ওএনজিসির মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত কেউ দরপত্র জমা দেয়নি। পাইপলাইন ব্যয়, গ্যাসের মূল্য ও ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড–সংক্রান্ত বিধানকে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশের অধীনে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল এলেও গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এর আগে কনোকো ফিলিপস, সান্তোস ও পস্কো দাইয়ুর মতো কোম্পানিগুলো চুক্তি করেও কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যায়।

এমবি এইচআর