ঢাকা পলিটেকনিক ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের হল দখল, থাকেন আলাদা কক্ষে, আছে ফার্নিচার, টেলিভিশন এমনকি ফ্রিজও
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসের পূর্ব শাখার ২০৫ নম্বর রুমটি যেন এখন পাঁচ তারকা হোটেলের কক্ষের মতো সাজানো। অথচ এটি কোনো রিসোর্ট নয়, এটি শিক্ষার্থীদের সরকারি হলের একটি রুম— যেখানে থাকার কথা শিক্ষার্থীদের, পড়াশোনার কথা শ্রমজীবী তরুণদের।
অভিযোগ উঠেছে, ওই রুমসহ ছাত্রাবাসের কয়েকটি কক্ষ দখল করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ১টি সিটের জন্য তারা মাসের পর মাস ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, অথচ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিছু রুম একদল ছাত্রদল কর্মী নিজেদের “ব্যক্তিগত বেডরুমে” পরিণত করেছে।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, “আমরা ৪ জনের রুমে ৮ জন মিলে গাদাগাদি করে থাকি। অথচ কিছু রুমে একজন বা দুইজন ‘নেতা’ রাজত্ব করছেন। এসব রুমে অন্য কেউ ঢুকতে পারে না।”
তাঁরা আরও বলেন, “হল সুপারও ওই ব্লকে ঢোকার সাহস পান না। ছাত্রদল নেতাদের কথাই শেষ কথা।”
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, “ছাত্রদল নেতারা রুমে নতুন ফার্নিচার, টেলিভিশন, এমনকি ফ্রিজও রেখেছেন। সাধারণ ছাত্রদের কাছে এটা রীতিমতো অস্বাভাবিক। কেউ প্রতিবাদ করলে পরদিনই তার রুম ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে তালা মেরে দেওয়া হয়।”
হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার না করলেও শিক্ষার্থীদের দাবি, আবাসিক জীবন এখন পুরোপুরি রাজনীতির কবলে।
একজন চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রের ভাষায়,
“এটা কোনো রাজনীতি না, এটা হলো অন্যের অধিকার দখল। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বা পলিটেকনিকের ছাত্র, রাজনীতির বলি হতে চাই না।”
এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমবি/এসআর

