‘প্রেসসচিবের অপকর্মের দায় ভবিষ্যতে হয়তো তার ভাই সাফার করবে’— মাসুদ কামাল

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রেসসচিবের ভাইকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামালও মুখ খুলেছেন।

Oct 27, 2025 - 20:16
 0  3
‘প্রেসসচিবের অপকর্মের দায় ভবিষ্যতে হয়তো তার ভাই সাফার করবে’— মাসুদ কামাল
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রেসসচিবের ভাইকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামালও মুখ খুলেছেন।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘তিনি প্রেসসচিবের ভাই, বলুন—আলহামদুলিল্লাহ!’ শিরোনামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন। ভিডিওটির নিচে দর্শকরা নানা প্রতিক্রিয়া জানালে মাসুদ কামালও তাদের মন্তব্যের জবাব দেন।

প্রথম দর্শক শামসুল আলম লেখেন—‘আলহামদুলিল্লাহ, ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না।’
আরেকজন, সোহেল, লেখেন—‘মাসুদ কামাল ভাই, আপনার সততায় আমরা মুগ্ধ। আপনি বারবার বলেছেন, উনার (প্রেসসচিবের) তুলনায় আপনি ক্ষুদ্র মানুষ, কিন্তু আমাদের কাছে আপনি একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক।’

এ প্রসঙ্গে মাসুদ কামাল বলেন, “আপনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আপনি যেভাবে আমাকে মূল্যায়ন করেছেন, হয়তো আমি ততটা কিছু নই, কিন্তু আপনার কথার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

আরেকজন মন্তব্য করেন, “এই সরকার বিএনপিকে হাতের পুতুল বানিয়ে ফেলেছে। যা খুশি তা-ই করছে, আর বিএনপি তাতে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। হায়রে ক্ষমতা, যে তোর লোভ!”

মশিউর রহমান রুবেল লেখেন, “আচ্ছা, উনার ভাই কি আকাশ থেকে পড়ে যুগ্ম সচিব হয়েছেন, নাকি শেখ হাসিনার আমলে পদোন্নতি পেয়েছেন?”

রফিক মেমোরিজ নামে একজন মন্তব্য করেন, “প্রেসসচিবের অপকর্মের দায় ভবিষ্যতে হয়তো তার ভাই সাফার করবে।”

এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মাসুদ কামাল বলেন,
“কথাটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ। ধরুন, প্রেসসচিবের ভাই যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রশাসক হয়েছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি সরকার পরিবর্তন হয় এবং নতুন সরকার প্রেসসচিবকে পছন্দ না করে, তাহলে তারা এই নিয়োগের কারণ দেখিয়ে ওই প্রশাসকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে। আমাদের দেশে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে—সরকার বদল হলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, হয়রানির শিকার হন, এমনকি কারাবন্দিও হন। একটি দেশ এভাবে চলতে পারে না, কিন্তু আমরা দিন দিন সেই সংস্কৃতিটাকেই আরও অগ্রসর করছি, যা সত্যিই দুঃখজনক।”

এমবি এইচআর