ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীরা জানাজার সামনের কাতারেই ছিল: জুমা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীরা তার জানাজা নামাজের সামনের কাতারেই ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা।

Jan 15, 2026 - 15:07
 0  2
ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীরা জানাজার সামনের কাতারেই ছিল: জুমা
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীরা তার জানাজা নামাজের সামনের কাতারেই ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। পোস্টে জুমা লেখেন, ‘হুটহাট মাথায় এসে হিট করে, ভাইরে (হাদি) হত্যার পরিকল্পনাকারীদের কেউ কেউ হয়তো ভাইয়ের জানাজার সামনের দুই-তিন কাতারেই ছিল। আমরা হয়তো বুঝতে পারিনি, চিনতে পারিনি, কিছুই করতে পারিনি। সকল ষড়যন্ত্র উন্মোচিত করে দাও খোদা। আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া নিরুপায়।’

ওই পোস্টের একটি মন্তব্যে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে মামলার শুনানি রয়েছে। তাঁর ভাষায়, চার্জশিটে কেবল মাসুদ ও বাপ্পিকে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঘটনা ঘটার পরের সব তথ্য আছে, কিন্তু ঘটনার আগের প্রস্তুতি বা পরিকল্পনার কোনো কিছুই নেই। মাস্টারমাইন্ডদের বের করা কি সম্ভব না, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে করতে দেওয়া হয় না—জানি না।’

জুমা আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘এরা কারা, কী এমন শক্তি তাদের যে কখনো সামনে আনা সম্ভব হয় না? আমাদের শুধু শুনে মেনে নিতে বলা হয়। এরা কি হাসিনার চেয়েও শক্তিশালী?’

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর প্রধান আসামি শ্যুটার ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার সহযোগীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আজ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে।

এমবি এইচআর