নির্বাচন হবে তো, নাকি ফের ‘সাজানো নির্বাচন’—জনমনে বাড়ছে সংশয়
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও নির্বাচন আদৌ হবে কি না—এ নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও নির্বাচন আদৌ হবে কি না—এ নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মানুষের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে—নির্বাচন হবে তো? হলে কিসের বিনিময়ে হবে? আর সেটি কি ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের মতো বিতর্কিত ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে?
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জিল্লুর রহমান বলেন, ২২ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২১ তারিখের মধ্যেই প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব প্রস্তুতির মাঝেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের মিত্রদের অনুপস্থিতি। তাদের বিপুল ভোটব্যাংক শেষ পর্যন্ত কোথায় যাবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। কেউ মনে করছেন ভোটাররা নিরুৎসাহিত হয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন না, আবার কেউ বলছেন এই ভোট ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক শক্তির দিকে যেতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের কাছে দল ও প্রতীকই শেষ কথা।
জিল্লুর রহমানের মতে, বিএনপি মানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ মানে আওয়ামী লীগ—এই বাস্তবতার বাইরে জোট বা মিত্রের হিসাব সাধারণ ভোটারের কাছে খুব বেশি কার্যকর হয় না। এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী কী ভূমিকা নেয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কখনোই স্থিতিশীল ছিল না; বরং অভ্যুত্থানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা আরও খারাপ হয়েছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, যার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে এই সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও আলোচনা করেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের প্রভাব বেড়েছে। জামায়াত পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে ‘ম্যানেজ’ করতে পারছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্রশিবিরের কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ভেতরে ঢুকে জয়ী হওয়ার ঘটনাগুলো বিস্ময়কর এবং তারা এসব নিয়ে কোনো লজ্জাবোধও প্রকাশ করছে না।
তিনি আরও বলেন, এনসিপির প্রকৃত ভোট-সমর্থন কতটা, তা স্পষ্ট না হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে দলটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেকের আশঙ্কা, নির্বাচন হলেও সেটি সরকারের অধীনে ‘ইঞ্জিনিয়ার্ড’ বা সাজানো নির্বাচন হতে পারে, যেখানে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা সুবিধা পেতে পারে।
সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা না এলেও গণভোট নিয়ে তৎপরতা বেশি চোখে পড়ছে। উপদেষ্টাদের জেলা সফর, এনজিওদের নিয়ে বৈঠক এবং প্রশাসনের সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে সরকার কোন পথে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।
সবশেষে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কি না, কীভাবে হবে, কিংবা আদৌ হবে কিনা—এই অনিশ্চয়তাই এখন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এমবি এইচআর

