ভারত ইস্যুতে উত্তেজনার নেপথ্যে রাজনীতি: যা বললেন জুলকারনাইন সায়ের
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমর্থন কমাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘দক্ষিণপন্থীরা’ পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে—এমন মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জুলকারনাইন সায়ের।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমর্থন কমাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘দক্ষিণপন্থীরা’ পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে—এমন মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জুলকারনাইন সায়ের।
বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঠেকানোর প্রকল্প কিছুটা ধাক্কা খাওয়ার পর দক্ষিণপন্থীরা নতুন টার্গেট হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে উত্তপ্ত করার কৌশল নিয়েছে। বিশেষ করে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহকে কেন্দ্র করে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে—যে সময় তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে জানা যাচ্ছে।
জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং বর্তমান জটিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্যই জরুরি। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভর-কেন্দ্রগুলো থেকে দ্রুত তাঁর প্রত্যাবর্তনের দাবি ওঠায় তিনি নিজেও ঝুঁকি নিয়েই ডিসেম্বরের চতুর্থ সপ্তাহে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চলছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে যুদ্ধংদেহী রূপ দেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো—তারেক রহমানের দেশে ফেরার সামাজিক আবেদন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
জুলকারনাইন সায়ের বলেন, এই উত্তেজনা পরিস্থিতি ভারতের বর্তমান শাসকদের জন্যও নানা দিক থেকে লাভজনক। প্রথমত, বিজেপি-আরএসএস বাংলাদেশকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় রাজনৈতিক উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারছে, যার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এতে বাংলাদেশ ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার সুযোগ পাচ্ছে ভারত। তৃতীয়ত, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে মুসলমানবিদ্বেষ আরও উসকে দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থত, ‘নর্থ-ইস্ট ভাগ করে দেব’ কিংবা ‘দূতাবাসে ঢুকব’—এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের সাম্প্রতিক ন্যারেটিভকে শক্তিশালী করছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পর জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানের একক উচ্চ সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নয়াদিল্লি দেখতে চায় না। সেই কাজটিই দেশে থাকা ফার-রাইট গোষ্ঠীগুলো কার্যত তাদের হয়ে করে দিচ্ছে।
তবে জুলকারনাইন সায়ের মনে করেন, বাংলাদেশের জনগণ বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। জনগণের নীরব দৃঢ়তাই নির্বাচনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পথ সুগম করেছে। ভারতবিরোধিতার আড়ালে তারেক রহমানকে ঘিরে যে ছদ্ম রাজনৈতিক যুদ্ধ তৈরি হচ্ছে, তার তাৎপর্য জনগণ বুঝতে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লেখেন, ভারতের বিরুদ্ধে স্নায়ু-লড়াইয়ের প্রকৃত হাতিয়ার হলো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। আর সে লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপ হলো উৎসবমুখর নির্বাচন এবং জনসমর্থিত শক্ত নেতৃত্ব। কেবল শক্তিশালী জনপ্রতিনিধিরাই ভারতের কাছ থেকে অপরাধীদের ফিরিয়ে আনা এবং বাংলাদেশের ন্যায্য স্বার্থ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
এমবি এইচআর

