কে হবেন বিসিবি সভাপতি, আমিনুল ইসলাম নাকি তামিম ইকবাল
আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে বিসিবি নির্বাচন। বোর্ডে ২৫টি পরিচালক পদ থাকলেও মূল আকর্ষণ ‘সভাপতি’ পদ। এই পদ নিয়েই যত কৌতুহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ক্রিকেটে তামিম ইকবাল অধ্যায় শেষ হয়েছে আগেই, অসুস্থতার পর ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার খেলা নিয়ে আছে শঙ্কা। এর মাঝেই ক্রিকেট পাড়ায় গুঞ্জন রটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আসছেন তামিম।
যদিও কোয়াব নির্বাচন ইস্যুতে বিসিবি নির্বাচন খানিকটা আড়ালে পড়ে যায়, তবে ফের আলোচনা বোর্ড নির্বাচন। শোনা যাচ্ছে কেবল পরিচালক পদে নয়, সভাপতি হবার লক্ষ্যেই কাজ করছেন তামিম।
ক্রিকেটপাড়ায় চলছে নির্বাচনী আমেজ। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেছে আগেই। সবকিছু ঠিক থাকলে ৪ সেপ্টেম্বর হবে নির্বাচন।
আগের ১৪ বছর একই কমিটি দায়িত্ব পালন করলেও এবার বেশ জমে উঠেছে কোয়াব নির্বাচন। ইতোমধ্যে সভাপতির পদ বাগিয়ে নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তামিম। ক্রিকেটারদের সাথে বেশ কয়েকটি বৈঠকও করেছেন তিনি।
অন্যদিকে সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে বিসিবি নির্বাচন। বোর্ডে ২৫টি পরিচালক পদ থাকলেও মূল আকর্ষণ ‘সভাপতি’ পদ। এই পদ নিয়েই যত কৌতুহল।
কে হবেন আগামীর বোর্ড সভাপতি? এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি নাম বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন মাহবুবুল আনাম। তবে তিনি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এতে বিসিবির পরবর্তী সভাপতি হওয়ার লড়াইটা হতে পারে সাবেক তিন ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ফারুক আহমেদ ও তামিম ইকবালের মাঝেই। অন্তত ক্রিকেটপাড়ায় এমন খবরই ভেসে বেড়াচ্ছে।
বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলে অ্যাডহক কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদি তা না হয়, তবে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুললবুল।
অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচন হলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মনোনীত প্রার্থী হতে পারেন তিনিই। তাছাড়া এখন পর্যন্ত সেভাবে এগোচ্ছেন বুলবুল। তিন মাসের সভাপতি হওয়ার জন্য তো আর আইসিসির চাকরি ছাড়তেন না তিনি!
তাছাড়া যেসব সংস্কার আর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন বুলবুল, তার বেশিভাগই দীর্ঘমেয়াদি। ফলে পুনরায় তাকে বিসিবি সভাপতির চেয়ারে দেখতে পারাটা অমূলক নয়।
অন্যদিকে সদ্য সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদকেও দেখা যেতে পারে বিসিবি নির্বাচনে। তিনিও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। তার হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লাব। অনেক পরিচালকও তাকে সমর্থন করবেন।
ফারুক এখন কেবল অপেক্ষায় আছেন রাজনৈতিক সাড়া পাওয়ার। যদিও সেই সম্ভাবনা খুব একটা নেই। তবে এদিক থেকে এগিয়ে তামিম ইকবাল। সূত্র মতে, লন্ডন থেকে এক রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদ নিয়ে এসেছেন তামিম।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্রিকেটপাড়ায় বেশ সরব হয়েছেন তামিম। ক্রীড়া উপদেষ্টার সাথেও তার বেশ সখ্যতা রয়েছে। আবার হার্ট অ্যাটাক থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর থেকে ক্রীড়াঙ্গনে বেশ সক্রিয় তিনি।
জানা গেছে, তামিমের সাথেও ঢাকার ৭২ ক্লাবের একটা অংশ রয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায়ও তার সমর্থন আছে নিজ বিভাগ ও জেলা চট্টগ্রাম থেকেও বেশ কয়েকজন সংগঠককে তিনি পাশে পাচ্ছেন।
যদিও বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি তামিম। তবে তামিম অংশ নিলে আসন্ন নির্বাচনে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে যে কাউকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন তিনি।
এমবি এইচআর