পূর্বাচলে গড়ে উঠছে ৪ থানা, ৬ ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্স: নিরাপত্তায় বড় উদ্যোগ ডিএমপির

পূর্বাচল নতুন শহরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পূর্বাচলে ৪টি থানা, ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএমপি।

Oct 18, 2025 - 13:31
 0  3
পূর্বাচলে গড়ে উঠছে ৪ থানা, ৬ ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্স: নিরাপত্তায় বড় উদ্যোগ ডিএমপির
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
পূর্বাচল নতুন শহরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পূর্বাচলে ৪টি থানা, ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএমপি। এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে, যা পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

রাজউক ও ডিএমপি সূত্র জানায়, পূর্বাচলে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে থানাগুলো স্থাপনের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার বলেন, “পূর্বাচলে থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকাটিতে নিরাপত্তা বাড়বে এবং বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।”

প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুনভাবে গঠিত ‘পূর্বাচল বিভাগ’ নামের অপরাধ বিভাগের অধীনে ৪টি থানা, ৬টি ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্স থাকবে। প্রতিটি থানায় একজন পুলিশ পরিদর্শক, ৩৪ জন উপপরিদর্শক (এসআই), ২৮ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং ৩৯ জন কনস্টেবলসহ মোট ১০৪ জন সদস্য কাজ করবেন।
ফাঁড়িগুলোর জন্য প্রতিটিতে ২৬ জন এবং প্রতিটি পুলিশ বক্সে ৯ জন করে সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “পূর্বাচলের বিশাল এলাকা এখন অরক্ষিত। এতে অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। থানা ও ফাঁড়ি স্থাপন হলে মানুষ সেখানে বসবাসে আগ্রহী হবে, ফলে রাজধানীর যানজটও কমে আসবে।”

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প এলাকায় মোট ৬,২১৪ একর জমিতে ২৬ হাজার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই এলাকা ডিএমপির বাড্ডা ও খিলক্ষেত থানা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার অংশে বিভক্ত। নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পূর্বাচল প্লট মালিক সমিতির নেতারা বলেন, “থানা ও ফাঁড়ি চালু না হওয়ায় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রকল্প এলাকায় পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হলে মানুষ বাড়ি নির্মাণে আগ্রহী হবে।”

রাজউক ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পূর্বাচলে দ্রুত স্কুল, হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশন এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। একই সঙ্গে রাজউক ১০০ সশস্ত্র আনসার নিয়ে অস্থায়ী টহল কার্যক্রম চালু করেছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “পূর্বাচল প্রকল্প শুরু হয়েছে প্রায় তিন দশক আগে, কিন্তু এখনো নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার ঘাটতি রয়েছে। অতি দ্রুত এসব অবকাঠামো চালু করা জরুরি, নইলে প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।”

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নিরাপত্তা ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এমবি এইচআর