‘ধরিয়ে’ দেওয়া প্ল্যাকার্ডে বিব্রত বিইউপি শিক্ষার্থীরা
ধর্ষণ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের সময় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ধর্ষণ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের সময় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্ল্যাকার্ডগুলো তাঁদের হাতে ‘ধরিয়ে দেওয়া’ হয়েছিল, যার লেখাগুলো পরে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
বিইউপির অন্তত তিন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাঁরা প্ল্যাকার্ডে কী লেখা আছে তা না জেনেই হাতে নিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, মিছিলের সময় পেছন থেকে কিছু ব্যক্তি প্ল্যাকার্ডগুলো হাতে ধরিয়ে দেন। সামনে গণমাধ্যমের ক্যামেরা থাকায় তাঁরা সেগুলো যাচাই না করেই ধরে রাখেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা বিব্রত অবস্থায় পড়েন।
এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা যখন মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের কাছাকাছি পৌঁছাই, তখন পেছন থেকে বলা হয়—এগুলো ধরে রাখো। মিডিয়ার সামনে যাচ্ছিলাম বলে চেক করার সময় পাইনি। এখন বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বিব্রত।”
এর আগে সাভারে এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি ঘটে ১৪ অক্টোবর রাতে, এবং ১৬ অক্টোবর ওই ছাত্রী তিনজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে আসামি সোহেল রোজারিও, বিপ্লব রোজারিও ও মিঠু বিশ্বাসকে ১৯ ও ২০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে বিইউপির শিক্ষার্থীরা ১৮ ও ১৯ অক্টোবর মিরপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তবে দ্বিতীয় দিনের মিছিলে কিছু বিতর্কিত বক্তব্য লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যার মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা ও খিলাফতবিষয়ক স্লোগানও ছিল।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্ল্যাকার্ডগুলো একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা হাতে তুলে দিয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁরা তা সঙ্গে সঙ্গেই ছিঁড়ে ফেলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলার ভিডিওও ছড়িয়ে পড়েছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা প্রায় সাত-আট মিনিট প্ল্যাকার্ডগুলো হাতে ছিলাম। পরে দেখি সেখানে এমন কিছু লেখা ছিল, যা আমাদের অবস্থানের সঙ্গে যায় না। এখন সবাই আমাদের নিয়ে ভুল বুঝছে, আমরা মানসিকভাবে খুব চাপের মধ্যে আছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে তাঁদের কেউ কেউ হুমকির মুখে পড়েছেন। তাঁরা বলেন, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল ধর্ষণ মামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা, কিন্তু এখন তাঁদেরকেই সামাজিকভাবে হেনস্তা হতে হচ্ছে।
বিইউপির এই ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন থাকলেও, শিক্ষার্থীরা বলছেন—এই ঘটনা তাদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে আড়াল করে দিয়েছে।
এমবি এইচআর

