ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মানুষের ঢল
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে। আজ শনিবার বেলা ২টায় জানাজা শুরুর কথা থাকলেও সকাল থেকেই দলে দলে মানুষ সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ফার্মগেট ও আসাদগেট হয়ে দলে দলে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রবেশ করছেন। অনেককে হাতে ও মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে জানাজায় অংশ নিতে আসতে দেখা যায়। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের মাঠে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—‘আমরা সবাই হাদি হব যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ ইত্যাদি।
লালবাগ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে জানাজায় অংশ নিতে আসা আহসান উল্লাহ বলেন, “হাদি ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে এসেছি। জনসমাগম হবে ভেবে আগেই চলে এসেছি।”
জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের প্রবেশপথগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একাধিক স্তরে তল্লাশির মাধ্যমে আগতদের ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও আনসারের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে বেলা ১টার কিছু আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইনকিলাব মঞ্চের এক পোস্টে জানানো হয়, জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ছাড়া অন্য কোনো পতাকা বহন করা যাবে না। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে হাদির পরিবার।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানাজা উপলক্ষে এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে যান চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।
বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে এবং কাজী নজরুল ইসলাম의 কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হবে।
এর আগে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদি মারা যান। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ ঢাকায় আনা হয় এবং রাতে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
এমবি এইচআর

