মাদ্রাসার আড়ালে বোমা তৈরির ল্যাব: নেপথ্যে জামিনে মুক্ত জেএমবি নেতা আল আমিন, বড় নাশকতার ছক!
দেশে জঙ্গিবাদকে ‘নাটক’ বা ‘সাজানো’ বলে প্রচার চলার মধ্যেই ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ভয়ঙ্কর জঙ্গি তৎপরতার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হাসনাবাদ এলাকার একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
দেশে জঙ্গিবাদকে ‘নাটক’ বা ‘সাজানো’ বলে প্রচার চলার মধ্যেই ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ভয়ঙ্কর জঙ্গি তৎপরতার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হাসনাবাদ এলাকার একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অনুসন্ধান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পেরেছে, ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল বোমা তৈরির একটি গোপন ল্যাবরেটরি। তদন্তে উঠে এসেছে, এই কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় নেতা আল আমিন শেখ রাজিব, যিনি সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হন।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের ওই মাদ্রাসায় হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডসহ বিভিন্ন দাহ্য রাসায়নিক ব্যবহার করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক টিএটিপি (TATP) তৈরি করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহৃত সুইসাইডাল ভেস্ট তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, বড় কোনো স্থাপনা বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা চলছিল।
আল আমিন শেখ রাজিব জেএমবির পরিচিত ও দুর্ধর্ষ সদস্য হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জে একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও পুরোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জামিনে মুক্ত থাকা শীর্ষ জঙ্গিদের মাধ্যমে যেকোনো সময় বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি কিছু মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে একে ‘নাটক’ বলে প্রচার করা হলেও কেরানীগঞ্জের এই ঘটনা ভিন্ন বাস্তবতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জঙ্গিবাদ এখনো ঘাপটি মেরে থাকা এক গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি। বাস্তব প্রমাণ উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা প্রাণহানির পরই হয়তো বিষয়টি নতুন করে সামনে আসবে—তখন আর প্রতিরোধের সুযোগ নাও থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।
এমবি এইচআর

