ডাকসু নির্বাচনে প্যানেল ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়—বাংলাদেশের সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। দলটি নিয়মিত ডাকসু নির্বাচনের দাবি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে তারা ডাকসু বানচালের যেকোনো অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়—বাংলাদেশের সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে দলটি ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ঢাবি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়। তবে তারা ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, ডাকসু সচল হলে ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির আস্ফালন ও অপরাধ প্রবণতা বন্ধ হবে এবং একটি সহাবস্থানমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে। দলটি ডাকসুকে কেন্দ্র করে চলা টাকার ছড়াছড়ি ও পুঁজিবাদী আস্ফালনের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে কিছু মহল তাদের প্রস্তুতি ও জনসমর্থনের অভাবে পরাজিত হওয়ার ভয়ে ডাকসু নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
দলটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, তফসিল অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং এর জন্য তারা নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে যেকোনো ধরনের হিংসাত্মক মন্তব্য, গুজব এবং ডাকসু বানচালের প্রবণতা ঠেকাতে প্রশাসনের শক্ত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের নির্বাচিত প্যানেল থেকে শিক্ষার্থীরা জিতলে বেশকিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১।নারী শিক্ষার্থীদের হলে বৈদ্যুতিক পাখা অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
২। রেজিস্ট্রার অফিসকে ডিজিটাল করা
৩। শতভাগ আবাসন সুবিধা এবং আবাসন মানের উন্নয়ন
৪। গবেষণামূলক স্কলারশিপ ও ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি
৫। ডিজিটাল লাইব্রেরি ও স্মার্ট ক্লাসরুম
৬। অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যবস্থা সহজীকরণ
৭। বিভাগ ও হল পর্যায়ে দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে ‘ছাত্র-অভিযোগ সেল’ গঠন
৮। উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং ক্যারিয়ার গাইডেন্স
৯। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মাথাপিছু ব্যয় স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার
১০। সব ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতি প্রতিষ্ঠা
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ইয়াছিন আরাফাত, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে খায়রুল আহসান মারজান এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দলটি জানিয়েছে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।