যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরাইলের হামলা, আটকে রেখেছে ৭৫ শতাংশ ত্রাণ
কথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। দখলদার বাহিনীর এই আগ্রাসনে উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় নতুন করে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
কথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। দখলদার বাহিনীর এই আগ্রাসনে উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় নতুন করে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। একই সঙ্গে ইসরাইল প্রতিশ্রুত ত্রাণের বড় অংশ আটকে রেখেছে— এখন পর্যন্ত গাজায় প্রবেশ করেছে নির্ধারিত ত্রাণের মাত্র এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ ৭৫ শতাংশই আটকে রাখা হয়েছে।
রবিবার (২ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা মেহের-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি আর্টিলারি দক্ষিণ গাজার পূর্ব খান ইউনিস এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনী উত্তর গাজার পূর্ব জাবালিয়া ও খান ইউনিসের আরও কয়েকটি স্থানে গুলিবর্ষণ চালায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব হামলায় ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
স্থল, আকাশ ও নৌবাহিনী মিলিয়ে ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে, যদিও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এখনও কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে এই যুদ্ধবিরতি আদৌ সত্যিকারের যুদ্ধবিরতি কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ৮০০-রও বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানায়, ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৪৫টি ট্রাকের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে— যা প্রতিশ্রুত দৈনিক ৬০০ ট্রাকের মাত্র ২৪ শতাংশ।
গাজা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণ ও বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে বাধা দিচ্ছে, যার ফলে ২৪ লাখেরও বেশি মানুষের মধ্যে মানবিক বিপর্যয় তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির দায় পুরোপুরি ইসরাইলের দখলদার নীতির ওপর বর্তায়।”
এমবি এইচআর

