সম্পর্ক জোরদারে ভারত সফরে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন

দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফরে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০২১ সালের পর এটাই তার প্রথম ভারত সফর।

Dec 4, 2025 - 13:38
 0  2
সম্পর্ক জোরদারে ভারত সফরে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফরে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০২১ সালের পর এটাই তার প্রথম ভারত সফর। এবারের সফরের মূল লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা। বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মস্কো সফর করেছিলেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে উভয় দেশের জন্যই সময়টি চ্যালেঞ্জপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছে মস্কো; অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর চাপ—এসব মিলিয়ে ভারতও কঠিন পরিস্থিতি পার করছে। এ অবস্থায় পুতিনের দিল্লি সফরকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি হ্রাস নিয়ে সাম্প্রতিক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মস্কো। ভারতীয় বেসরকারি রিফাইনারিগুলো আমদানি কমালেও কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিমাণে সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার প্রত্যাশা, পরিস্থিতি সাময়িক এবং বিকল্প বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তোলা হলে প্রবাহ স্বাভাবিক হবে।

সামরিক সহযোগিতায় রাশিয়ার গুরুত্ব এখনও প্রাধান্য বিস্তার করছে। ভারতের সামরিক সরঞ্জামের ৬০–৭০ শতাংশই রুশ উৎসের। সাম্প্রতিক পাকিস্তান-সংঘর্ষে রুশ এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে সন্তোষজনক ফল পাওয়ায় ভারত আরও এস-৪০০ কেনার বিষয়ে চিন্তা করছে। যদিও এস-৫০০ বা নতুন সু-৫৭ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা আপাতত নেই। অন্যদিকে ব্রহ্মোস–২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের যৌথ প্রকল্প এগোতে পারে।

পুরোনো অ্যান্টি–এয়ারক্রাফট গান প্রতিস্থাপনে রাশিয়ার প্যানৎসির সিস্টেম যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি চীনের হুমকি মোকাবিলায় ভোরোনেজ লং–রেঞ্জ রাডার কেনার বিষয়েও ভাবছে ভারত। পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন প্রযুক্তিতে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচিত।

বাণিজ্যে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমদানি–রপ্তানির অসমতা। রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানি যেখানে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ভারতের রপ্তানি মাত্র ৫ বিলিয়ন। এ বৈষম্য দূর করতে দুই দেশই বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায় খুঁজছে। ক্ষুদ্র মডুলার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর উন্নয়নও আলোচনার অন্যতম বিষয় হতে পারে।

পুতিনের সফর ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া সামলে দিল্লিকে এগোতে হবে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার পথেই।

এমবি এইচআর