অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাস: অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, জবাবহীন প্রশ্ন
গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রজুড়ে অগ্রগতির চেয়ে অনিশ্চয়তা ও হতাশাই এখন প্রধান আলোচ্য।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রজুড়ে অগ্রগতির চেয়ে অনিশ্চয়তা ও হতাশাই এখন প্রধান আলোচ্য।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সময়ে ১৩টি দেশে ১৪ বার সফর করেছেন। এসব সফর থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য বা কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো দৃশ্যমান সাফল্য আসেনি। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান ও উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে মবসন্ত্রাস ও সহিংসতার ঘটনা বাড়লেও তা দমন বা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যানেও অপরাধের হার কমেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিচারকদের ছুটিতে পাঠানো এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অভিযোগে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমেছে জনগণের।
ক্রীড়াঙ্গনেও স্থিতিশীলতা ফেরেনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অনেকের মতে, ক্রীড়া খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে, যা খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট করছে।
পররাষ্ট্রনীতিতেও অচলাবস্থা স্পষ্ট। একাধিক দেশ বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ বা সীমিত করেছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিদেশি আস্থাও কমে গেছে।
পরিবেশ ও অবকাঠামো খাতে সরকারের পদক্ষেপেও তেমন উন্নতি হয়নি। সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থা, দূষণ ও দখল সমস্যা রয়ে গেছে আগের মতোই। পরিবেশ রক্ষার ঘোষণাগুলোও কাগজে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।
গণমাধ্যমে স্বাধীনতার সংকটও গভীর হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, চাকরিচ্যুতি ও হয়রানির ঘটনা বাড়ায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও স্থবিরতা অব্যাহত। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও রপ্তানি খাতে মন্দা দেখা দিয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা নির্বাচনের পর স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির অপেক্ষায় আছেন।
সম্প্রতি ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের অবস্থা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
চৌদ্দ মাসের ব্যবধানে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আশা যতটা ছিল, বাস্তবে অর্জন তার চেয়ে অনেক কম। দুর্নীতি, বিচার, আইন-শৃঙ্খলা, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থবিরতা ও অদক্ষতা জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
এমবি এইচআর

