জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট, ৯ মাসে সংবিধান সংস্কার করবে নতুন সংসদ
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার বাস্তবায়নে প্রথমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হবে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার বাস্তবায়নে প্রথমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হবে। এরপর সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে জনগণের সম্মতি নিতে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটে অনুমোদন পেলে আগামী জাতীয় সংসদ প্রথম ২৭০ দিন (৯ মাস) ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কাজ করবে এবং পাস হওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবে।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমিশনের আলোচনায় সংস্কার বাস্তবায়নের বিকল্প পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ কাজ সম্পন্ন না করলে সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়।
সূত্র আরও জানায়, সরকার চাইলে এই প্রস্তাবগুলো ‘সংবিধান সংশোধনী আইনের খসড়া বিল’ আকারে গণভোটে উপস্থাপন করতে পারে।
আদেশের প্রস্তাবিত কাঠামো
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য জারি করা হবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫’। আদেশে উল্লেখ থাকবে—গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে সরকার এই সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।
আদেশে দুই ধরনের ধারা থাকবে—কিছু তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর, বাকিগুলো পরবর্তী সময়ে কার্যকর হবে। তাতে বলা থাকবে, সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণের অনুমোদন অপরিহার্য, এবং সেই উদ্দেশ্যে গণভোট আয়োজন করা হবে।
গণভোটের আগে জনগণের জানার সুবিধার্থে সরকার প্রণীত একটি খসড়া বিল গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। এজন্য আলাদা একটি গণভোট অধ্যাদেশও জারি করা হতে পারে।
ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক
সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ঐকমত্য কমিশনের সমাপনী বৈঠক। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশের খসড়ায় ইতিবাচক মতামত দেন। উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
সংস্কারের পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রকাশ ঘটার পর কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।
এরপর গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশন—সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন—এর সুপারিশ সমন্বয় করে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এ পর্যন্ত ২৫টি দল ও জোট এতে স্বাক্ষর করেছে।
মতভিন্নতা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
তবে সংবিধান সংস্কারের ৪৭টি প্রস্তাব নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মধ্যে কিছু মতভিন্নতা রয়েছে। বিশেষ করে, বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পেলে এনসিপি এখনই সনদে সই করতে চায় না।
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, তাঁদের সুপারিশে এমন বিধান রাখা হচ্ছে যাতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আলোচনা ও গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ নেয়।
গণভোট সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একসঙ্গে হবে, নাকি আগে হবে—সে সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সংক্ষেপে:
🔹 প্রথমে জারি হবে ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫’
🔹 এরপর গণভোটে জনগণের মত নেওয়া হবে
🔹 গণভোটে অনুমোদিত হলে নতুন সংসদ ৯ মাস কাজ করবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে
🔹 নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে
এমবি এইচআর

