‘হত্যার নির্দেশ দেইনি, আইসিটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার’ — দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে শেখ হাসিনা

সহিংস আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, গত বছরের গণবিক্ষোভ দমনে প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর জন্য তিনি কোনো নির্দেশ দেননি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারকে তিনি ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

Oct 29, 2025 - 15:24
 0  3
‘হত্যার নির্দেশ দেইনি, আইসিটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার’ — দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে শেখ হাসিনা
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
সহিংস আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, গত বছরের গণবিক্ষোভ দমনে প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর জন্য তিনি কোনো নির্দেশ দেননি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারকে তিনি ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের নির্বাসন জীবন, বিচার প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

প্রতিবাদকারীদের হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি কখনোই নিরাপত্তা বাহিনীকে ভিড়ের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। বরং মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলার অভাবের কারণেই প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতি হিসেবে আমরা যাদের হারিয়েছি, তাদের প্রত্যেকের জন্য আমি শোক জানাই।”

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চলমান বিচারের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আইসিটি একটি প্রহসনের আদালত, যা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দ্বারা পরিচালিত। আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই এই মামলা সাজানো হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচার প্রক্রিয়ায় যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তবে তাতেও তিনি ‘বিস্মিত বা ভীত হবেন না’।

গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়াকে তিনি ‘অপরিহার্য সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করে বলেন, দেশে থাকলে তার জীবনসহ আশেপাশের অনেকের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ত।

তিনি অভিযোগ করেন, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে না। তবে নির্বাসনেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারে অটল রয়েছেন বলে জানান শেখ হাসিনা।

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে তিনি বলেন, “সহিংস বিদ্রোহের মুখে দেশের সংবিধান রক্ষা করা কোনো অপরাধ নয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো নেতাকে এজন্য বিচার করা উচিত নয়।”

এমবি এইচআর