“১৯৭১-এ বুদ্ধিজীবী, ২০২৫-এ হত্যা করা হচ্ছে শিল্পোদ্যোক্তাদের”—বিটিএমএ সভাপতি

Nov 3, 2025 - 12:10
 0  2
“১৯৭১-এ বুদ্ধিজীবী, ২০২৫-এ হত্যা করা হচ্ছে শিল্পোদ্যোক্তাদের”—বিটিএমএ সভাপতি

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
দেশে তীব্র গ্যাসসংকট শিল্প খাতকে একেবারে অচল করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ নেতারা। তাঁদের ভাষায়, গ্যাসের অভাবে একের পর এক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াইয়ে হাঁসফাঁস করছে।

রোববার (২ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট, বিশেষ করে গ্যাস সমস্যা ও এর প্রভাব’ শীর্ষক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন উদ্যোক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন,
“১৯৭১ সালে খুঁজে খুঁজে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে হত্যা করা হচ্ছে শিল্পোদ্যোক্তাদের। এটা নিছক সংকট নয়, পরিকল্পিত এক ষড়যন্ত্র।”

তিনি আরও বলেন, “গ্যাস না থাকলে কারখানা চলবে না। উৎপাদন বন্ধ হলে শ্রমিকদের বেতন দেব কীভাবে? সরকার যদি বেতন না দেওয়ার অপরাধে গাড়ি-বাড়ি বিক্রির নির্দেশ দেয়, তবে গ্যাস না দেওয়ার জন্য দায়ীদেরও কি জবাবদিহি করতে হবে না?”

ব্যবসায়ী নেতা রাসেল বলেন, “আমাদের রেডিমেড ফ্যাক্টরি আছে, কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পার্টনার হতে চায় না। তারা জানে, এখানে ফ্যাক্টরি চালানো এখন আর ভায়াবল নয়। সরকারের নানা আশ্বাস বাস্তবায়নের আগে শিল্পগুলো টিকিয়ে রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ।”

শিল্পখাতের এই সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই), বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিসিআই, আইসিসিবি ও বিপিজিএমইএসহ সাতটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও। তাঁদের অভিযোগ— ৫০ শতাংশ কারখানায় ইতিমধ্যে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, বাকিগুলোও টিকে থাকার লড়াই করছে।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, “গ্যাস নেই, উৎপাদন নেই, অথচ ব্যাংক বলছে তিন মাস সুদ না দিলেই খেলাপি। আবার সরকার বলে, বেতন না দিলে গাড়ি-বাড়ি বিক্রি করুন! এমন অবস্থায় শিল্প কীভাবে চলবে?”

অন্যদিকে বিটিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহ উজ্জামান অভিযোগ করেন, “মনে হচ্ছে শিল্পখাত ধ্বংসে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হচ্ছে। অন্তত উদ্যোক্তাদের জন্য একটা ‘এক্সিট পলিসি’ দিন, যেন সম্মান নিয়ে ব্যবসা ছাড়তে পারি।”

বিটিটিএলএমইএর চেয়ারম্যান হোসেইন মেহমুদ বলেন, “১৪ এপ্রিল থেকে গ্যাস নেই। কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারলে আমরা কার কাছে যাব? গ্যাস বিতরণে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এবং অন্তত জানিয়ে দেওয়া দরকার, কখন গ্যাস থাকবে, কখন থাকবে না।”

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, “গ্যাস না দিলে উৎপাদন বন্ধ হবে, রপ্তানি কমবে, রিজার্ভে চাপ পড়বে— এটা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হওয়ার দরকার নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তারা তিন দফা দাবি তোলেন—

  1. শিল্প খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা,
  2. শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব স্থগিত রাখা,
  3. গ্যাস খাত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।

ব্যবসায়ীদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত ধ্বংসের মুখে পড়বে।

এমবি/এসআর