বিমানবন্দরের ভল্ট ভেঙে অত্যাধুনিক ৭ আগ্নেয়াস্ত্র চুরি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজের স্ট্রংরুমের ভল্ট ভেঙে অত্যাধুনিক মডেলের অন্তত সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে।

Nov 4, 2025 - 13:38
 0  12
বিমানবন্দরের ভল্ট ভেঙে অত্যাধুনিক ৭ আগ্নেয়াস্ত্র চুরি
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজের স্ট্রংরুমের ভল্ট ভেঙে অত্যাধুনিক মডেলের অন্তত সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডেও অক্ষত থাকা ভল্ট থেকে অস্ত্রগুলো নিখোঁজ হওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার দুপুরে নিয়মিত পরিদর্শনের সময় বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রথম শনাক্ত করে।

চুরি হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম৪ কারবাইন রাইফেল এবং ব্রাজিলের তৈরি টরাস সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। তবে কোন মডেলের কতটি অস্ত্র চুরি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশিরভাগ আমদানি পণ্য পুড়ে যায়, তবে স্ট্রংরুমের ভল্ট প্রায় অক্ষত থাকে। আগুন নেভানোর পর বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ভল্ট সিলগালা করা হয়। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, সোনা, হীরা ও বৈধভাবে আমদানিকৃত আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষিত ছিল।

এরপর ২৪ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে ভল্টের লক খোলা ও ট্রাংক ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তখন ২১টি অস্ত্র পাওয়া যায়, যার তিনটি আংশিক পুড়ে গিয়েছিল এবং ১৮টি বাক্সবন্দি ছিল। পরে ভল্টটি মেরামত করে পুনরায় সিলগালা করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ভল্টের নিরাপত্তা দেখভাল করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। কিন্তু ২৮ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শনে দেখা যায়, ভল্টের লক আবার ভাঙা এবং ট্রাংকও ক্ষতিগ্রস্ত। মিলিয়ে দেখা যায়, সেখানে থাকা ২১টি অস্ত্রের মধ্যে ৭টি অস্ত্র নেই।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মো. জামাল হোসেন এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ সদর দপ্তর এবং সিআইডির ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে তালা কাটার সরঞ্জামসহ আলামত সংগ্রহ করেছে।

বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ভল্টে সংরক্ষিত অস্ত্রগুলোর বেশিরভাগই ছিল বাংলাদেশ পুলিশের জন্য এবং বৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের আমদানিকৃত আগ্নেয়াস্ত্র। আগুনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় অস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, স্ট্রংরুম এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় কোনো ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তবে এখনো চোর শনাক্তে অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে ২৪ অক্টোবরের প্রথম জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন না হওয়ায় ফুটেজ বিশ্লেষণের সুযোগ সীমিত।

বর্তমানে চুরি হওয়া অস্ত্র বাদে বাকি ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী থানায় সংরক্ষিত রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত এই বড় ধরনের ঘটনার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এমবি এইচআর