সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের কারণ জানাল অন্তর্বর্তী সরকার
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের মতে, সীমিত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো বাস্তব সুফল পাওয়া সম্ভব নয়; বরং এতে বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, আপাতত এই দুই বিষয়ের জন্য আলাদা পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত বাজেটের ব্যবস্থা হলে সব বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
এর আগে গত রোববার সরকার ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা’ সংশোধন করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের ধারা বাতিল করে। নতুন বিধিমালাটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।
অগাস্ট মাসে জারি হওয়া ২০২৫ সালের মূল বিধিমালায় চার ধরনের শিক্ষক পদ রাখা হয়েছিল—প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক (সংগীত) এবং সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা)। কিন্তু সংশোধনের পর শুধু প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক—এই দুটি পদ রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, দেশের আড়াই হাজার ক্লাস্টারে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সচিব কমিটি মনে করে, দেশে ৬৫ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় ক্লাস্টারভিত্তিক নিয়োগ দিলে একজন শিক্ষককে ২০টিরও বেশি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে হতো, যা বাস্তবসম্মত নয়।
এছাড়া, এত অল্পসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিলে বৃহৎ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে না এবং বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য বাড়বে বলেও মনে করে কমিটি। ফলে, প্রয়োজনীয় অর্থ ও কাঠামোগত সক্ষমতা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন পদ সৃষ্টি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এমবি এইচআর

