বিএনপিই দেশে বহুবার গণতন্ত্র ফিরিয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল
বাংলাদেশে বিএনপির হাত ধরে দেশে বহুবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে— এমন মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার নেতৃত্বের দাবিদার আওয়ামী লীগের হাতেই গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশে বিএনপির হাত ধরে দেশে বহুবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে— এমন মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার নেতৃত্বের দাবিদার আওয়ামী লীগের হাতেই গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘একটি কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রবর্তন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময়েই গণতন্ত্র “হত্যা হয়েছে”। তাঁর ভাষায়, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলভাবে— সামরিক শাসনের হাত ধরে এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “একাত্তর বড় না চব্বিশ বড়— এ ধরনের প্রশ্ন তুললে শহীদদের অসম্মান করা হয়।” আবার যদি কেউ দাবি করেন যে শুধুই একাত্তরই গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে ২০২৪ সালে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আনাসসহ ১,৪০০ মানুষের ত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী আইন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ন্যায়ের আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আসা উচিত। সংবিধানে সবার সমান অধিকারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে— তা বাস্তবায়নে আইন প্রণয়নে কোনো বাধা নেই, বর্তমান সময়ই এ কাজের উপযুক্ত সময়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি দলিত, হরিজন, বেদে, চা শ্রমিক, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, হিজড়া সম্প্রদায় ও রোহিঙ্গাদের ওপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলমান বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আইনি সুরক্ষা না থাকায় এসব জনগোষ্ঠী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি সেবা, নিরাপদ আবাসন এবং কর্মসংস্থানে নিয়মিতভাবে বঞ্চনার শিকার হন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে যে ত্যাগ, সংগ্রাম ও ব্যয় থাকে— বৈষম্যবিরোধী আইনটিও সেই পথেই এসেছে। তিনি জানান, গত সরকারের সময়ে আইনটি সংসদ পর্যন্ত গেলেও শেষ মুহূর্তে পাস হয়নি। এরপর আর অগ্রগতি হয়নি।
সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বার কাউন্সিলের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কাফি রতন এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
এমবি এইচআর

