বন্দর রক্ষায় দেশজুড়ে হরতাল-অবরোধের প্রস্তুতি
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বন্দর রক্ষায় বাম-ডান সব রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শিগগিরই হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে।
বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সমাবেশ করেন। ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার এই চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
এর আগে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস ও সুইজারল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের পরিচালনা চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিটুজি পদ্ধতিতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাচ্ছে। আদালতে রিট থাকা সত্ত্বেও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট স্কপ, বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বহু প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে বিক্ষোভ, গণসংযোগ, মানববন্ধন, মশাল মিছিলের মতো কর্মসূচি পালন করছে। তাদের অভিযোগ—চুক্তিগুলো তড়িঘড়ি ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও স্টেকহোল্ডারদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।
স্কপ নেতারা জানিয়েছেন, শনিবার চট্টগ্রামে শ্রমিক কনভেনশনের পর হরতাল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাংক রোড অবরোধের মতো বড় ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বিদেশিদের হাতে বন্দর ব্যবস্থাপনা তুলে দিলে দেশের বন্দর ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
হেফাজতে ইসলাম, নাগরিক সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশিদের কাছে দীর্ঘমেয়াদে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাদের দাবি, চুক্তির শর্ত প্রকাশ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে, আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বন্দর রক্ষা ও স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এমবি/এসআর

