তারেক রহমানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কেন প্রয়োজন
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা, দেশের মানুষের গভীর ভালোবাসা এবং বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন করে গুরুত্ব বেড়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা, দেশের মানুষের গভীর ভালোবাসা এবং বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন করে গুরুত্ব বেড়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অতীতের হামলা-নিপীড়ন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনপূর্ব উত্তেজনার কারণে তার দেশে ফেরা ও নিরাপদ চলাচলকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে।
বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই দেশজুড়ে মানুষের দোয়া, ব্যাকুলতা ও আবেগ প্রমাণ করেছে—তাকে সাধারণ মানুষ কতটা ভালোবাসে। ১৯৯১ থেকে ২০০১—দুই মেয়াদে তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, দুর্নীতির প্রতি আপসহীন অবস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্বে’র প্রতীকে পরিণত করে।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটজনক। চিকিৎসকদের মতে—নিউমোনিয়া কিছুটা উন্নতি দেখালেও লিভার, হৃদযন্ত্র, কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতা কাটছে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড পর্যবেক্ষণ শেষে তাকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
এ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—তারেক রহমান কেন দেশে ফেরেন না? এর উত্তরে বিএনপির মিডিয়া টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, নিরাপত্তা একটি কারণ হলেও তা একমাত্র কারণ নয়। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমন্বয়, রাজনৈতিক চাপ এবং চিকিৎসাবিষয়ক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকায় তার দেশে ফেরা জটিল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে—তার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর সমমানের নিরাপত্তা—স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)—প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় আছে। এমনকি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বলছে—তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে নিরাপত্তা-ঝুঁকি নেই। তবু বাস্তবতা হলো—ইতিহাস বলছে, ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা’ বলে বাস্তবে কিছু নেই।
রাজীব গান্ধীর ওপর শ্রীলঙ্কায় সৈনিকের আকস্মিক হামলা থেকে শুরু করে ফিলিপাইনের বিরোধী নেতা বেনিগনো অ্যাকুইনোকে বিমানবন্দরেই হত্যার ঘটনা—সবই প্রমাণ করে, উচ্চ নিরাপত্তার বেষ্টনীও কখনো শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। বাংলাদেশেও ইতিহাসে রয়েছে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তারেক রহমানের ওপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা।
বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্বাচনপূর্ব অস্থিরতা, বিদেশে পলাতক কিছু পক্ষের উসকানি এবং সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কা বিবেচনা করলে তারেক রহমানের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত—কারণ তার দেশে ফেরার সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন, বিএনপির নেতৃত্ব ও জনগণের প্রত্যাশা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেশকে বড় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ সতর্কতা, সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধ এবং নির্বাচনের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এখন সময়ের দাবি।
এমবি এইচআর

