যুদ্ধাবস্থা না থাকলেও সীমান্তে মানুষ হত্যার ঘটনা দুঃখজনক: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত যেখানে যুদ্ধাবস্থা না থাকা সত্ত্বেও মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

Dec 7, 2025 - 20:12
 0  2
যুদ্ধাবস্থা না থাকলেও সীমান্তে মানুষ হত্যার ঘটনা দুঃখজনক: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত যেখানে যুদ্ধাবস্থা না থাকা সত্ত্বেও মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সবসময়ই এর নিন্দা জানাই। যদি বিএসএফ আমাদের সীমান্তে ঢুকেই এমন কাজ করত, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতাম; বিজিবিকে অ্যাকশন নেওয়ার নির্দেশও দিতাম। কিন্তু ঘটনাগুলো ভারতের সীমানার ভেতরে ঘটায় জোর করে থামানোর ক্ষমতা আমাদের নেই।”

রবিবার নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার চীন–বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যখন ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের স্বর্ণযুগ’ বলা হতো, তখনও সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়নি। ভারতীয় নীতি বা কার্যক্রম বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, সম্পর্ক যতই ভালো হোক না কেন। এখন সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সীমান্ত ইস্যুতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ সবসময় এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানায়, প্রতিবাদ নোট পাঠায় এবং হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানায়। তবুও ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। “বলপ্রয়োগ করে এটা বন্ধ করার ক্ষমতা নেই। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে,” বলেন তিনি।

ভারতের ‘চিকেন নেক’ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটি ভারতের কৌশলগত অংশ, বাংলাদেশের নয়। “আমরা তা দখল করতে যাব না। ভারত–চীন সম্পর্ক তাদের বিষয়; এ নিয়ে বাংলাদেশ পক্ষ নেবে না।”

চীন–বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল বিষয়ে তিনি বলেন, এটি হবে একটি রেফারাল হাসপাতাল যেখানে উচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। প্রথম দিকে চীনারা পরিচালনা করবে, পরে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে। তিনি জানান, তাঁর দায়িত্ব শেষ হলে তিনি আবারও আগের জীবনে ফিরে যাবেন, এবং কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁর নেই।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমবি এইচআর