উপদেষ্টা পরিষদের সম্পদ গোপন—সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

ক্ষমতা গ্রহণের পর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও এক বছর পার হলেও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের আয়–সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ হয়নি।

Dec 8, 2025 - 13:48
 0  2
উপদেষ্টা পরিষদের সম্পদ গোপন—সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ক্ষমতা গ্রহণের পর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও এক বছর পার হলেও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের আয়–সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ হয়নি। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়েছিল, কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে এসেও কেউই তাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেননি।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, উপদেষ্টারা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন কি না—এ ব্যাপারে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই। প্রকাশের নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি, ফলে বিষয়টি পুরোপুরি অন্ধকারেই রয়ে গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, দুদক কিংবা এনবিআর—কোনো সংস্থাই নিশ্চিত করতে পারেনি যে এসব বিবরণী কোথায় সংরক্ষিত আছে বা প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে।

স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অনেকেই এই অবস্থানে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, যারা দায়িত্বে থেকে জনগণের সামনে স্বচ্ছতার কথা বলেন, তাদের ক্ষেত্রেই যদি সম্পদের তথ্য গোপন থাকে, তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থার বাকি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে যাবে।

এদিকে গত এক বছরে উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য সম্পদের ঘোষণাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা প্রকাশ না হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের পার্থক্যই দুর্নীতির প্রথম সূত্র—কিন্তু এখানে সেই সুযোগ নেই।

নিজের সম্পদের হিসাব প্রকাশের উদাহরণ টেনে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ক্ষমতাসীনদের দায়িত্ব আরও বেশি, তাদেরই জনগণের কাছে সবচেয়ে স্বচ্ছ থাকা উচিত।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন্ত্রীদের মতো উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রেও সম্পদ প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার স্পষ্ট আইনি কাঠামো নেই। নীতি থাকলেও কার্যকর নির্দেশনা না থাকায় এই ফাঁক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব গোপন থাকলে স্বার্থের সংঘাত ও অনৈতিক সিদ্ধান্তের ঝুঁকি থেকেই যায় বলে বিশ্লেষকদের মত।

সরকারের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর মিলেছে—“বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন”।

ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পরও উপদেষ্টা পরিষদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ না হওয়ায় সরকারের স্বচ্ছতা–সংক্রান্ত অঙ্গীকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নাগরিকদের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পদের তথ্য গোপন থাকা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য বড় ধরণের উদ্বেগ তৈরি করছে।

এমবি এইচআর