তফসিল ঘোষণার পর পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রতীক্ষিত তফসিল ঘোষণা করবেন।

Dec 11, 2025 - 11:20
 0  6
তফসিল ঘোষণার পর পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি?
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রতীক্ষিত তফসিল ঘোষণা করবেন। তবে তফসিল ঘোষণা মানেই যে সেটি অপরিবর্তনীয়—এমন কোনো সাংবিধানিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে পরিস্থিতির প্রয়োজনে পুনঃ তফসিল ঘোষণার নজির রয়েছে একাধিকবার।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল পরিবর্তন করে ভোটের সময় এগিয়ে আনে। ১৯৯০ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঘোষিত তফসিলে ভোটের তারিখ ছিল ২ মার্চ; কিন্তু ওই দিন শবে বরাত থাকায় তা এগিয়ে এনে ১৭ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলও পরিবর্তিত হয়েছিল। তখন কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২৩ ডিসেম্বর ভোটের সময় নির্ধারণ করলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবেদনের পর ভোট সাত দিন পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর স্থির করা হয়। পরে বিতর্কিত সেই নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

২০১৩ সালে ঘোষিত দশম জাতীয় সংসদের তফসিল পরিবর্তন করা না হলেও ভোটগ্রহণের আগ পর্যন্ত সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ঘটে এবং কমসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি ঘোষিত নবম সংসদের তফসিল জরুরি পরিস্থিতির কারণে বাতিল করা হয় এবং পরবর্তী কমিশন ২০০৮ সালে নতুন তফসিল ঘোষণা করে চারবার সংশোধন এনে ২৯ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে।

তবে এবার পুনঃ তফসিলের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে মনে করছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে—আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, রোজার আগেই নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। আর কমিশনের পরিকল্পনা হচ্ছে ৬০ দিনের ব্যবধানে তফসিল ঘোষণা করা। সে হিসেবে ফেব্রুয়ারির ৮ থেকে ১২ তারিখের যেকোনো দিন ভোটের সময় নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। এরপর সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তফসিল পেছানোর সুযোগ থাকবে না বলেই ধারণা নির্বাচন কর্মকর্তাদের।

এমবি এইচআর