এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ, সংকট কাটাতে জ্বালানি বিভাগের ৫ উদ্যোগ

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ সংকট নিরসনে পাঁচটি উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এলপিজির আমদানি বাড়বে এবং ধীরে ধীরে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Jan 8, 2026 - 15:27
 0  2
এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ, সংকট কাটাতে জ্বালানি বিভাগের ৫ উদ্যোগ
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ সংকট নিরসনে পাঁচটি উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এলপিজির আমদানি বাড়বে এবং ধীরে ধীরে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আমদানিকারকদের মতে, সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

এরই মধ্যে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, এলপিজির আমদানি বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শুল্ক ও ভ্যাট কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি কোম্পানিকে বাড়তি আমদানির অনুমতি দিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বুধবার এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি জানায়, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলপিজি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য জেলায় এখনো বিক্রি চলছে।

আজ বিকেলে বিইআরসির সঙ্গে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, এখনই সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব না হলেও আমদানি বাড়াতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ফলে শিগগিরই বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

জ্বালানি বিভাগের নেওয়া ৫ উদ্যোগ

১. এলপিজি আমদানির জন্য ঋণপ্রাপ্তি ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া।
২. সবুজ জ্বালানি বিবেচনায় এলপিজি আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমাতে এনবিআরকে অনুরোধ—আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো এবং উৎপাদন পর্যায়ের সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব।
৩. ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, ইউনাইটেড আই গ্যাস ও ডেল্টার আমদানি সিলিং বাড়ানোর আবেদনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি দিয়ে বিইআরসিকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ।
৪. জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া।
৫. চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসংলগ্ন স্টোরেজ পরিদর্শনের মাধ্যমে আমদানি করা এলপিজির প্রকৃত চিত্র যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ।

এমবি এইচআর