চলতি মাসেই ২৫০ আসনে একক প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেবে বিএনপি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই প্রায় ২৫০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মাসেই কে কোন আসনে প্রার্থী হবেন তা জানিয়ে দেওয়া হবে—অর্থাৎ সম্ভাব্য প্রার্থীদের ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হবে।

Oct 22, 2025 - 16:44
Oct 22, 2025 - 16:45
 0  2
চলতি মাসেই ২৫০ আসনে একক প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেবে বিএনপি
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই প্রায় ২৫০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মাসেই কে কোন আসনে প্রার্থী হবেন তা জানিয়ে দেওয়া হবে—অর্থাৎ সম্ভাব্য প্রার্থীদের ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হবে। বিএনপির বিশ্বাস, এতে করে দলীয় কোন্দল কমে আসবে এবং মাঠপর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা গড়ে তোলা সহজ হবে।

তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। এবারের নির্বাচনে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধ রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং মিত্র দলের কিছু শীর্ষ নেতার আসনে কাউকে সবুজ সংকেত দেবে না বিএনপি বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে মাগুরা, চট্টগ্রাম ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে তিনি মনোনয়ন, নির্বাচনি প্রস্তুতি, প্রচারণা ও ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। এর আগে সিলেট বিভাগের নেতাদের সঙ্গেও একইভাবে মতবিনিময় করেন তিনি।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা বিভাগ ছাড়া সব অঞ্চলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডেকে জানানো হয়েছে যে, খুব শিগগিরই একক প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হবে। এর পর পর্যায়ক্রমে ঢাকার আসনগুলোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন,

“চমক বলতে ইয়াং জেনারেশন এবার আগের চেয়ে আরেকটু বেশি অগ্রাধিকার পাবে। কারণ তারা অনেক বেশি অ্যাকটিভ। নারীরাও যথেষ্ট অগ্রাধিকার পাবে।”

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,

“এলাকায় সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থীরাই মনোনয়ন পাবেন। আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে খোঁজ নিচ্ছি—জনগণের কাছে কার অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী।”

গুলশান বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী জানিয়েছেন, প্রতিটি আসনে ৪ থেকে ৫ জন করে মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ২ থেকে ৩ জনকে ডেকে মতবিনিময় করা হচ্ছে। বৈঠকে একক প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ বলেন,

“আমাদের জানানো হয়েছে, প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”

সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে পাঁচটির একক প্রার্থীকে ইতোমধ্যে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই আসন (বগুড়া-৬ ও ৭) জিয়া পরিবারের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে।

বগুড়া অঞ্চলের প্রার্থীরা হলেন—
কাজী রফিকুল ইসলাম (বগুড়া-১), মীর শাহে আলম (বগুড়া-২), আবদুল মুহিত তালুকদার (বগুড়া-৩), মোশাররফ হোসেন (বগুড়া-৪) এবং গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (বগুড়া-৫)।

সিরাজগঞ্জ ও সাতক্ষীরাসহ কয়েকটি জেলায়ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে একক প্রার্থীকে মাঠে প্রচারণা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রার্থী মনোনয়নে এবার তরুণ ও নারীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন,

“এবার তরুণ ভোটারের সংখ্যা বেশি। তাই জেন-জি ও তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই তরুণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন,

“নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মাহমুদুর রহমান সুমনের মতো ক্লিন ইমেজধারী তরুণ নেতাদের প্রার্থী করা হলে বিএনপির পক্ষে বিজয় সুনিশ্চিত হতে পারে।”

সবশেষে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা পরিষ্কার—জনগণের কাছে যিনি গ্রহণযোগ্য ও মাঠে সক্রিয়, তিনিই হবেন বিএনপির একক প্রার্থী।

এমবি এইচআর