রাষ্টপতির হাতে শপথ গ্রহণেই সৃষ্টি হলো জটিলতা: রাশেদ খান
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ গ্রহণ করায় পরে রাজনৈতিক ও আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ গ্রহণ করায় পরে রাজনৈতিক ও আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পদৌক্তিতে উল্লেখ করেন, ওই সময় নেওয়া সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের ফল আজকে भुगততে হচ্ছে এবং তাতে খেসারত মেটাতে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাশেদ খান বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শাসনকাজ চালাচ্ছে—এবং সাধারণত রাষ্ট্রীয় আদেশও রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরযুক্ত আকারে জারি হয়। ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত যে প্রক্রিয়া চলছে, তা যদি রাষ্ট্রপতির মঞ্জুরিপত্র ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে জারি করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেই আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকবে। তিনি বলেন, আবেগপ্রবণ অবস্থায় দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তীতে তা আইনি বা রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি দাবি করেন যে, জুলাই সনদ অবশ্যই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মাধ্যমে জারি করা উচিত; অন্য কোনো সূত্র থেকে জারি হলে সনদের বৈধতা অস্বীকার করা হবে—এই অবস্থান নিয়েছে এনসিপি। রাশেদ খান এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, যদি উপদেষ্টা পরিষদের শপথ গ্রহণের সময়ই ভিন্ন পথে চলা হতো, তাহলে এ ধরনের বিতর্ক এসেছে না। তিনি এই ভুলের দায়ভার ও এর ফলে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তার প্রতিকার সহজ নয় বলে সতর্ক করেন।
রাশেদ আরও ইঙ্গিত করেন যে, এমন ধরনের সরল ভুলের প্রতিদান ছাড়া সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়; প্রয়োজনে তা মোকাবিলার জন্য বৃহত্তর গণআন্দোলন বা রাজনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া বিকল্প থাকবে না—যে দাবি তিনি করেন, তা রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
এই বিতর্কের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো আলাদা ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি। রাজনৈতিক মহল ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—যারা শপথ গ্রহণ ও আদেশ জারির প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাদের কথা ও প্রয়োগগত সিদ্ধান্তগুলোর আইনি যাচাই এখন সময়োপযোগী হবে।
এমবি এইচআর

