আওয়ামী লীগ ‘পরিবার ত্যাগ’ করা সেই শ্রাবণ পেলেন ধানের শীষ
পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত, অথচ তিনিই বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পথ। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এখন বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত, অথচ তিনিই বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পথ। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এখন বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের ২৩৭টি আসনের প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেন। সেখানে কেশবপুর থেকে মনোনয়ন পান রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
প্রায় এক যুগ পর গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজ এলাকায় ফিরে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেদিন নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন সাবেক ছাত্রদল সভাপতি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শ্রাবণ বলেন, “আমার পরিবার ভিন্ন মতাদর্শের হলেও নির্বাচনে তাতে প্রভাব পড়বে না। দলে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে কেশবপুরের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করব। মানুষের মন জয় করেই রাজনীতি করতে চাই।”
আওয়ামী লীগ পরিবারে জন্ম, বিএনপিতে পথচলা
শ্রাবণের গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রামে। ২০০৩ সালে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। মুহসিন হলে থাকাকালীন সময়েই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। দ্রুতই হয়ে ওঠেন পরিচিত মুখ।
বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান বিভাগে সান্ধ্য কোর্সে ভর্তি থাকাকালীন সময়ে, ২০২২ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরের বছর আগস্টে ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, তবে দুই মাস পরই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।
তার বাবা কাজী রফিকুল ইসলাম ছিলেন কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। বড় ভাই মুস্তাফিজুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আরেক ভাই মোজাহিদুল ইসলাম উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং ছোট ভাই আজাহারুল ইসলাম ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক।
নিজ পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও শ্রাবণ বেছে নিয়েছিলেন বিএনপির রাজনীতি। এর ফলে তিনি পরিবার থেকে দূরে সরে যান এবং দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি।
চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর প্রায় এক যুগ পর নিজ জন্মভূমি কেশবপুরে ফেরেন শ্রাবণ। সেদিন বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করেন তিনি। তার আগমনে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
জানা গেছে, কেশবপুরে গেলেও শ্রাবণ নিজের বাড়িতে যাননি এবং পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।
এমবি এইচআর

