দলীয় জোট নয়, ‘আসন সমঝোতা’ কি জামায়াতের গোপন কোন কৌশল?
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন চলা সমমনা দলগুলোর জোট গঠন পরিকল্পনা বাতিল করে নির্বাচনী আসনভিত্তিক সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন চলা সমমনা দলগুলোর জোট গঠন পরিকল্পনা বাতিল করে নির্বাচনী আসনভিত্তিক সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে এটি কোনও ‘গোপন’ বা ‘বিশেষ কৌশল’ কিনা তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা প্রচলিত কাঠামোগত জোট না করে, প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সমমনাদের সাথে আলাদাভাবে বসে সমঝোতা করবেন। এর ফলে জোটের মতো একটি কঠিন কাঠামোর প্রয়োজন হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মনে করেন, জোটের বদলে আসনভিত্তিক সমঝোতার কৌশল নেয়া হচ্ছে যাতে ভোট ভাগাভাগি না হয় এবং দলের অবস্থান শক্ত হয়। এতে দলগুলো আলাদাভাবে নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
জামায়াতের এই পদক্ষেপ বিএনপির সঙ্গে তাদের দূরত্ব বজায় রেখে এবং নির্বাচনী মাঠে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার এক রণনীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক খানিকটা দূরত্বপূর্ণ।
সমমনা ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনার পরও আনুষ্ঠানিক কোনো জোট গঠন হয়নি। তবে আসনভিত্তিক সমঝোতার মাধ্যমে দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে জনমত ও নির্বাচনী বৈচিত্র্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ ছিল। তবে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতসহ অনেক দল অংশ নেয়নি। এবারের নির্বাচনে জামায়াত নিজস্ব প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সমমনাদের জন্য কিছু আসন সংরক্ষণের কথাও বলা হচ্ছে।
এমবি এইচআর

