কেন রাজনীতিতে এসেছেন, জানালেন স্নিগ্ধ

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আলোচনায় মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের যমজ ভাই এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

Nov 7, 2025 - 14:16
 0  3
কেন রাজনীতিতে এসেছেন, জানালেন স্নিগ্ধ
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আলোচনায় মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের যমজ ভাই এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার রাজনীতিতে আসা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা। এবার নিজেই মুখ খুললেন স্নিগ্ধ।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে নিজের ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি ব্যাখ্যা দেন কেন রাজনীতিতে এসেছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমি আপনাদের অনেক কমেন্ট পড়ছি—একটাও বাদ দিইনি। কেউ আমাকে ভালোবাসা দিয়ে সাহস জুগিয়েছেন, কেউ আবার রাগে বকেছেন। কিন্তু জানেন? আপনাদের এই রাগটাই আমার কাছে ভালোবাসা মনে হয়েছে। কারণ আপনি শুধু তাকেই শাসন করেন, যাকে নিজের মনে করেন।”

স্নিগ্ধ লেখেন, “আমি রাজনীতিবিদ হয়ে জন্মাইনি। কয়েক মাস আগেও আমি ছিলাম আপনাদের মতোই সাধারণ এক মানুষ। কিন্তু জুলাইয়ের সেই দিনটা… সেই এক গুলিই আমার আর আমাদের পরিবারের জীবনটা এলোমেলো করে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে নিয়ে অনেকে বলেন আমি ‘ভাইয়ের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করছি’। তখন মনে হয়, এর চেয়ে যদি ওই গুলিটা আমাকেই লাগত! কিন্তু বুঝেছি, শুধু কান্না দিয়ে বিচার পাওয়া যায় না। বিচার চাইলে, এই সিস্টেমটা বদলাতে হলে, সেই জায়গায় যেতে হয় যেখানে আইন তৈরি হয়—সেই কারণেই আমি রাজনীতিতে এসেছি।”

স্নিগ্ধ স্বীকার করেন, তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ নন, ভুলও করতে পারেন। তবে তিনি জনগণের ভালোবাসা ও সমালোচনাকেই নিজের শক্তি বলে মনে করেন। তার ভাষায়, “আমার ভুল হলে গালি দিন, শাসন করুন, কিন্তু আমাকে রাস্তায় রাখুন—কারণ আমি হেরে গেলে, আপনি হেরে গেলে, আমরা হেরে গেলে, হেরে যাবে মুগ্ধ, হেরে যাবে জুলাই।”

শেষে তিনি আহ্বান জানান ঐক্যের—“আমি নেতা হতে আসিনি। আমি এসেছি আমার, আপনার, আমাদের হারানো ভাই-বোনদের শুরু করে যাওয়া যাত্রার অংশ হতে। আসুন না, এই অভিমানকেই আমরা দেশ গড়ার শক্তি বানাই।”

এমবি এইচআর