“আল্লাহর করুণায় আ.লীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছি''- লতিফ সিদ্দিকী
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
সাবেক মন্ত্রী ও সদ্য কারামুক্ত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, “আল্লাহর অপার করুণা—আমরা আওয়ামী লীগ থেকে দুজনই বহিষ্কার হয়েছি। না হলে আজ আমরা ঘৃণিত হতাম।” শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ছাতিহাটিতে জুমার নামাজ শেষে কর্মী-সমর্থক ও অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “জেলে গিয়ে দেখেছি, ৫ আগস্টের আগে যারা বড় ভাব দেখাত, তাদের সেই ভাব আজ নেই। আল্লাহ অহংকারী ও ভাবনাবাজ কাউকে পছন্দ করেন না। এখন ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি পরিষদ দেশ চালাচ্ছে—আমি এটাকে সরকার বলি না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর মানুষের অনেক আশা-প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তার সামান্য অংশও পূরণ হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, জীবদ্দশায় তিনি আর কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন না। তবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর পাশে সারাজীবন থাকার ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় বক্তব্য দেন কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমও। তিনি বলেন, দেশে ‘জয় বাংলা’ বলাটা যদি অপরাধ হয়, তাহলে তিনিই প্রথম গ্রেপ্তার হতে চান। তিনি জানান, তার অনুসারীরা সর্বত্রই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলবেন।
জুলাই-আগস্টের অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, শেখ হাসিনার পতন ঘটানোদের তিনি প্রথমে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাদের কর্মকাণ্ডের অনেক কিছুই তার ভালো লাগেনি। তিনি বলেন, “আমি জুলাইকে সমর্থন করি, তবে সে সময় যা ঘটেছে তার সবকিছুই সমর্থন করি না।”
অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা সিদ্দিকী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিদ্দিকী পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন এলাকার কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়ায় সুলতান আলাউদ্দিন হোনাইন শাহ কাশ্মিরী (র.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে দুই সহস্রাধিক মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রায় তাকে এলেঙ্গা থেকে নিজ গ্রাম ছাতিহাটীতে আনা হয়। সেখানে তিনি পরিবারের কবরস্থানে বাবা–মায়ের কবর জিয়ারত শেষে জুমার নামাজ আদায় করেন।
এমবি/এসআর

