সাঈদীকে ‘জিন্দা কাফের’ ও ‘বিশ্ব টাউট’ আখ্যা দিলেন বনি আমিন: ওয়াজে ভুয়া ধর্মান্তরের নাটক সাজানোর অভিযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগার বনি আমিনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগার বনি আমিনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তিনি জামায়াত নেতা ও বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং ওয়াজ মাহফিলে ভুয়া ধর্মান্তরের নাটক সাজানোর গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
ভিডিওতে বনি আমিন সাঈদীকে ‘জিন্দা কাফের’, ‘বিশ্ব টাউট’ ও ‘বিশ্ব বদমাইশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, সাঈদী ওয়াজ মাহফিলে ইসলাম গ্রহণের যে দৃশ্যগুলো উপস্থাপন করতেন, সেগুলো ছিল সম্পূর্ণ সাজানো। বনি আমিনের দাবি অনুযায়ী, টাকার বিনিময়ে সুযোগ-সন্ধানী হিন্দু ও খ্রিস্টানদের ভাড়া করে এনে হাজার হাজার মানুষের সামনে তাদের ‘নওমুসলিম’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই লোকটাই প্রথম কিছু হিন্দুকে ভাড়া করে আনত। সুশীল শীল, হরেন্দ্রনাথ শীল বা যোগীবালা দাসীর মতো কাল্পনিক বা ভাড়াটে লোকদের মঞ্চে এনে বলা হতো—তারা ওয়াজ শুনে মুসলমান হয়েছে।” এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ উপস্থাপন না করলেও তিনি বিষয়টিকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ বলে উল্লেখ করেন।
সাঈদীর শাস্তির প্রসঙ্গে বনি আমিন বলেন, তিনি যৌবনকাল থেকেই তাঁকে একজন প্রতারক হিসেবে জানতেন। সাঈদীর ফাঁসি না হওয়ায় শুরুতে আক্ষেপের কথা উল্লেখ করে পরে তিনি মন্তব্য করেন, “শয়তান খুব দ্রুত মরা উচিত না। তাকে জিন্দা রেখে জেলের ভেতর তিল তিল করে কষ্ট দেওয়া উচিত।”
ভিডিওটির শেষ অংশে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর একটি পুরনো ওয়াজের ক্লিপ যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে মঞ্চে ১২ জন নওমুসলিম—৩ জন নারী ও ৯ জন পুরুষ—ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে ঘোষণা দিতে দেখা যায়। বনি আমিন এই ক্লিপটিকে তাঁর অভিযোগের পক্ষে ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এমবি এইচআর

