দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ শুরুর অঙ্গীকার তারেক রহমানের

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

Dec 18, 2025 - 11:34
 0  2
দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ শুরুর অঙ্গীকার তারেক রহমানের
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময়) মধ্যরাতে লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে যুক্তরাজ্য বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রায় ১৭–১৮ বছর আপনাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ছিলাম। আগামী ২৫ ডিসেম্বর ইনশা আল্লাহ আমি দেশে চলে যাব। আমাকে ও আমাদের দলকে যারা ভালোবাসেন, দয়া করে কেউ বিদায় দিতে এয়ারপোর্টে যাবেন না। নেতা–কর্মীদের ভিড় হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু। এতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমি বা আমরা কোনো স্বপ্নের মধ্যে নেই, আমরা পরিকল্পনার মধ্যে আছি। সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করা হবে।”

বক্তব্যের শুরুতে তিনি যুক্তরাজ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিএনপির প্রবাসী নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রায় ১৮ বছর আগে যুক্তরাজ্যে আসার পর থেকে প্রবাসী বিএনপি নেতা–কর্মীরা তাঁকে নিরন্তর সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার পরই বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা রুদ্ধ করা হয়।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পায়, সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতান্ত্রিক আলোচনা শুরু হয়।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পথে অগ্রসর হয়। খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয় এবং বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়। শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে, সৃষ্টি হয় কর্মসংস্থান।

১৯৮১ সালে শহীদ জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই হত্যার মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে। এর পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং দেশ পুনর্গঠনের পথে এগোয়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে দেশে প্রায় ৮৪ হাজার শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্প ও প্রবাসী রেমিট্যান্স—এই দুই খাতের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান, যা বিএনপি সরকার বিস্তৃত করে। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষা চালু হয়, যা নারী উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ জিয়া উপজেলা পর্যায়ে ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু করেন, যা বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে ৫১ শয্যায় উন্নীত হয়।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর থেকে বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতা–কর্মী মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছে। এই আন্দোলনে হাজারো নেতা–কর্মী গুম ও নিহত হয়েছেন এবং লক্ষাধিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেককে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে।

তিনি বলেন, “৫ আগস্ট জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী শাসক পালাতে বাধ্য হয়েছে। এটি কোনো একক দলের বিজয় নয়—এটি জনগণের বিজয়।” দেশের ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, নারীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ষড়যন্ত্র এখনো চলমান উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা একাত্তর, পঁচাত্তর, একাশি ও ছিয়ানব্বইয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা আজও সক্রিয়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।

আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ভীক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে। দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করবে।

তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কৃষি, বেকারত্ব, নারী উন্নয়ন, খেলাধুলাসহ বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

বক্তব্যের আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

এমবি এইচআর