আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন, জামায়াতের জোটে ভাঙনের শঙ্কা

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আল্লামা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনী আসন সমঝোতায় থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Jan 14, 2026 - 12:51
 0  1
আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন, জামায়াতের জোটে ভাঙনের শঙ্কা
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আল্লামা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনী আসন সমঝোতায় থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও জামায়াত আজ বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দলীয় সূত্র ও সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির শীর্ষ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা রাজধানীর রামপুরার একটি মাদ্রাসায় যান। সন্ধ্যার পর সেখানে শুরা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা একাধিক বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত বৈঠক চলে। ভবনের নিচে নেতা-কর্মীদের অবস্থান ও আলাপ-আলোচনায় স্পষ্ট ছিল, আসন বণ্টন নিয়ে দলে তীব্র মতভেদ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতের পর বৈঠক শেষ হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার ওপর।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের দাবি, তারা শুরু থেকেই শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। আলোচনার পর ধাপে ধাপে সেই দাবি কমিয়ে সর্বশেষ ৫০টির বেশি আসনের কথা জানানো হয়। তবে জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ৪০টি আসন দিতে আগ্রহী, যা ইসলামী আন্দোলনের অনেক নেতা মানতে নারাজ।

এ ছাড়া জামায়াত এককভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সঙ্গে আলাদা বৈঠক করায় ক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। তাদের অভিযোগ, এসব বৈঠকের বিষয়ে আগেভাগে অন্য শরিকদের কিছুই জানানো হয়নি।

অন্যদিকে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দলটি ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনে ছাড় দিতে রাজি। কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে কিছু আসনে প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার চিন্তা করছে দলটি।

মামুনুল হক জানিয়েছেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, তবে শেষ পর্যন্ত সব আসনে সমঝোতা না হলে কিছু আসন উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে। খেলাফত মজলিসের নেতারা জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে গেলে তাদের জোটে থাকার বিষয়টিও নতুন করে ভাবতে হবে।

জামায়াতের একাধিক নেতা অবশ্য শেষ পর্যন্ত সব দলকে নিয়ে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আজ বিকেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১১ দলের আসন সমঝোতা ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর আগে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন ও গণভোট আলাদা করার দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করলেও এখন আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনে পড়েছে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন এই জোট।

এমবি এইচআর