নারী ক্রিকেটে গ্রুপিং, নিপীড়ন ও অস্থিরতা; অভিযোগের কেন্দ্রে মঞ্জুরুল

Nov 8, 2025 - 11:00
 0  2
নারী ক্রিকেটে গ্রুপিং, নিপীড়ন ও অস্থিরতা; অভিযোগের কেন্দ্রে মঞ্জুরুল

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: নির্বাচনের পরও এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়, নারী দলও বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ঠিক এমন সময়ে নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের বিস্ফোরক অভিযোগে কেঁপে উঠেছে দেশের ক্রিকেট অঙ্গন।

সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। এর আগে একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে আচরণগত নানা অভিযোগ করেছিলেন জাহানারা।

বিসিবি এ অভিযোগগুলো তদন্তে নামছে বলে নিশ্চিত করেছেন নারী বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “যেহেতু বিষয়গুলো অনেক আগের, আমাদের অনেক কিছু যাচাই করতে হবে। অভিযোগ উঠেছে, আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিসিবির সাবেক পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী জানান, জাহানারার কাছ থেকে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আগে থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। তবে তখন অভিযোগগুলো ছিল মানসিক চাপ, সুযোগ না দেওয়া ও খারাপ আচরণ নিয়ে। যৌন নিপীড়নের বিষয়টি তখন তাঁকে জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

শফিউল বলেন, “শুধু জাহানারাই নয়, মঞ্জু অনেক ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করত। জাহানারা অভিযোগ করত, তাকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমি বিষয়গুলো নিয়ে মঞ্জুর সঙ্গে কথা বলতাম। শেষ পর্যন্ত আমরা তাকে নারী বিভাগে রাখিনি।”

অন্যদিকে, জাহানারা জানিয়েছেন তিনি আপাতত মানসিকভাবে প্রস্তুত নন, তবে সময় নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই কথা বলব। সাবেক চেয়ারম্যানসহ যাঁরা কথা বলেছেন, সব বিষয়ে আমি স্পষ্টভাবে বলব। আমাকে আরেকটু সময় দিন।”

সব অভিযোগ একত্র করে জাহানারা বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর কাছে ১৩ পৃষ্ঠার একটি চিঠি জমা দেন। তবে নিজাম উদ্দিনের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, চিঠি পাওয়ার পর নিজাম উদ্দিন বিষয়টি শফিউলের কাছে পাঠান। শফিউল বলেন, “যদি সেখানে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকত, আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।”

এদিকে, নারী দলের ভেতরেও গ্রুপিংয়ের সমস্যা ছিল বলে স্বীকার করেন শফিউল। তাঁর মতে, ২০১৮–১৯ সালে নারী বিভাগে দায়িত্বে থাকা নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সময় দল তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে যায়, এবং ফাহিম একটি গ্রুপকে সরাসরি সমর্থনও দিতেন।

সব মিলিয়ে নারী ক্রিকেটের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অনিয়ম ও অভিযোগের জট আবারও সামনে এসেছে জাহানারার মুখ খোলার পর। এখন দেখার বিষয়—বিসিবি সত্যিই কতটা কার্যকর তদন্তে নামতে পারে এবং এই আলোচিত অভিযোগের কী পরিণতি হয়।

এমবি/এসআর