ছায়ানট ভবনে হামলা-ভাঙচুর: অজ্ঞাতনামা ৩০০–৩৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ছায়ানটের ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন।

Dec 21, 2025 - 15:13
 0  2
ছায়ানট ভবনে হামলা-ভাঙচুর: অজ্ঞাতনামা ৩০০–৩৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ছায়ানটের ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩০০ থেকে ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছায়ানট ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে এসে প্রথমে পার্কিং লটের দিকে আগুন দেয়। পরে তারা ভবনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।

হামলার সময় হামলাকারীরা ‘ভারতের দালাল’, ‘ভুয়া’, ‘নারায়ে তাকবীর’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘ভাঙো’—এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। প্রয়াত সঞ্জীদা খাতুনের প্রতিকৃতিও কেটে নষ্ট করা হয় এবং তাকে ‘নাস্তিক’ বলে সম্বোধন করা হয়।

ভবনের মিলনায়তনে ঢুকে তবলা, হারমোনিয়াম, তানপুরা সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বই, কাগজপত্র তছনছ করা হয়। পুরো মনিটরিং সিস্টেম, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, স্পিকার, লাইট ও ফ্যান ভেঙে ফেলা হয়। মাটির তৈরি চারুকর্ম ও শিল্পকর্ম, বিভিন্ন কক্ষ ও অফিসরুমের অধিকাংশ আসবাবও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাদ যায়নি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষও। ওই কক্ষগুলোর আলমারির গ্লাস ভাঙা হয়, চেয়ার-টেবিল ভেঙে ওলটপালট করে দেওয়া হয়। রমেশ চন্দ্র স্মৃতি মিলনায়তন, মূল মিলনায়তন এবং শৌচাগারেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। হামলাকারীরা বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের একটি অংশ মূলত লুটপাটে জড়িত ছিল। তারা বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে টাকা-পয়সা খোঁজে এবং যেসব সামগ্রী বহনযোগ্য ছিল সেগুলো নিয়ে যায়।

রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভবনটির নিয়ন্ত্রণ নেন। তবে তার আগেই দেশের সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম প্রধান এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপকভাবে তছনছ হয়ে যায়।

এই হামলার পর ছায়ানট ভবনে পরিচালিত ‘ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তন’-এর ক্লাসসহ সংগঠনের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

একই রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয় এবং উত্তরা এলাকায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

এমবি এইচআর