প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যান, গলা কেটে স্কুলছাত্রীকে হত্যা

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি হোটেল কর্মচারী মিলন। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকারের পাশাপাশি ওই স্কুলছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সে।

Jan 12, 2026 - 12:27
 0  2
প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যান, গলা কেটে স্কুলছাত্রীকে হত্যা
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি হোটেল কর্মচারী মিলন। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকারের পাশাপাশি ওই স্কুলছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সে।

র‌্যাব-৩ জানায়, গ্রেপ্তার মিলন মল্লিকের সঙ্গে নিহত লিলির পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে সে বিভিন্ন সময় আকার-ইঙ্গিতে লিলির কাছে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ করত। এমনকি লিলির পরিবার বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও লিলিকে জানায় মিলন।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বাসায় লিলিকে একা পেয়ে মিলন তাকে সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু লিলি এতে রাজি না হয়ে জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কোনো কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না। একই সঙ্গে সে মিলনকে ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে’ নিষেধ করে। এই অপমান ও প্রত্যাখ্যানের কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে মিলন নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

র‌্যাব জানায়, অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তর তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং অন্যান্য দিক আরও স্পষ্ট হবে।

এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে র‌্যাব জানায়, বাগেরহাট সদর থানা এলাকায় র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। সে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে।

নিহতের বড় বোন সোভা জানান, ‘আমাদের একটি খাবারের হোটেল আছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলের কর্মচারী মিলন খাবার নেওয়ার জন্য বাসায় আসে। এত রাতে আসা নিয়ে লিলির সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। শনিবার দুপুরেও সে খাবার নিতে বাসায় এসেছিল, তখন তার আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে আমি জিমে যাওয়ার সময় লিলিকে দরজা লক করে দিতে বলি। তখন মিলনও বাসা থেকে বের হচ্ছিল। পরে ফিরে এসে দেখি দরজা খোলা, ভেতরে সব এলোমেলো। লিলিকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। প্রথমে ভেবেছিলাম সে আহত হয়েছে। পরে ফরাজী হাসপাতালে নেওয়ার পর হিজাব খুলে দেখি তার গলায় রশি পেঁচানো এবং গলা কাটা।’

এমবি এইচআর